প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো তৈরি করতে না পারলে মানুষের কর্মসংস্থান হয় না। বিএনপির আমলে গ্রামীণ রাস্তাঘাট পাকা থাকে এবং মানুষের যোগাযোগ সহজ হয়। মেগা প্রজেক্টের চেয়ে এ কারণেই দারিদ্র্য বিমোচনে বিএনপি সবসময় ছিল চ্যাম্পিয়ন।
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান স্মরণে আয়োজিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের অবদান উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তাকে ভুলে যাওয়া যাবে না। স্মরণে রাখতে হবে। তিনি ভ্যাট (ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স) চালু করেছিলেন, তার চালু করা ভ্যাট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটা প্রাণ সঞ্চার করেছিল।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে যে অগ্রগতি শুরু করেছিলেন সাইফুর রহমান, সেখান থেকে এর উপরে আর কেউ নিয়ে যেতে পারেনি। সাইফুর রহমান এমন একজন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপক ছিলেন, যিনি টাকা পাচার বন্ধ করেছিলেন।
তিনি দেশের অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় অর্থনীতির ব্যবস্থাপক ছিলেন তখন এই লুটপাটের কথা শোনা যায়নি, টাকা পাচারের কথা শোনা যায়নি, ব্যাংক লোপাট হয়ে যাওয়ার কথা শোনা যায়নি। এমনকি ব্যাংকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সরকারের ঘাটতি বাজেট পূরণ করার কথাও শোনা যায়নি। কারণ বাজেট তিনি তার নিজস্ব অর্থনীতি এবং ট্যাক্স কালেকশনের মধ্য দিয়েই রচনা করতেন। ব্যাংকের টাকা ব্যাংকেই থাকত; তার সময় ব্যাংক ছিল ভাইব্রেন্ট। পরবর্তী ১৭ বছর ছিল তো লুটপাটের অর্থনীতি, লুটপাটের বাজেট; গোটা দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এবং আমাদের স্থানীয় ভাষায় বলতে গেলে ‘ফোকলা’ করে দেয়ার অর্থনীতি।
সাইফুর রহমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গড়ে তুলেছিলেন আর শেখ হাসিনা সেটাকে নেমে এনেছে শূন্যের কোঠায়- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, মেগা প্রজেক্ট, মেট্রোরেল, পদ্মা ব্রিজ, ফ্লাইওভার, সেতু- এমন নানা মুখরোচক কথা আমরা শুনেছি। কিন্তু সাইফুর রহমান এমন একজন অর্থনীতিবিদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপক ছিলেন, যার কাজ গোটা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। এই কারণে যে তিনি এককভাবে মানুষ যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে, সেই চেষ্টাই করেছেন।
সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, সাইফুর রহমান সাহেব দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে মারা গেছেন। এটা কি কেবলই দুর্ঘটনা ছিল, নাকি এর পেছনে কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল? এটাও আজকে আমাদের খুঁজে বের করা দরকার। কারণ তার মতো একজন মানুষ, যিনি এরকম একটি ছোট ও দারিদ্র্যপীড়িত দেশকে একটি অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড় করাচ্ছেন, একটা ফাউন্ডেশন দিচ্ছেন- এটি অনেক দেশ পছন্দ করেনি। অনেক দেশ বা ভেতরের অনেক শক্তি, যারা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে পছন্দ করে না, একটি দেশ নিজের সম্পদ ও অর্থনীতিতে গড়ে উঠুক কিংবা নিজের কৃষি অর্থনীতির উপর ভিত্তি করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হোক, তা পছন্দ করেনি। তাই সন্দেহ কিন্তু আছে। আমরা তখন থেকেই শুনেছি- সাইফুর রহমান সাহেবের এই দুর্ঘটনা কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে? এটিও আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, বিএনপির ঐতিহ্যের সাথে দেশপ্রেমিক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আছেন। তারেক রহমান দেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবে। এ দেশ খাদ্যে আবারো স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে, সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে এবং দারিদ্র্য সম্পূর্ণরূপে বিমোচন হয়ে একটি সমৃদ্ধশালী জাতিতে পরিণত হবে। এটাই এ দেশের মানুষের প্রত্যাশা।



