৫ সেপ্টেম্বর লংমার্চ সফল করার আহ্বান ১১ দলীয় ঐক্যের

কর্মসূচি অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বরে জনসভা শেষে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ শুরু হবে। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ শেষ হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার সঙ্কট নিরসনে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদ, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি বন্ধ এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে শান্তিপূর্ণ লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানান জোট নেতারা।

১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি সংস্কারসংক্রান্ত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় আসার পর তা বাস্তবায়ন করেনি। দেশে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের দলীয়করণ ও অব্যবস্থাপনার কারণে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এসব সমস্যা সমাধানের দাবি জানানো হলেও সরকার তা আমলে নেয়নি। বরং জনগণের অধিকার ও মানবাধিকারের পরিপন্থী বিভিন্ন আইন ও সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।

নেতারা বলেন, সংসদে সোচ্চার ভূমিকা রেখেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে জনগণের ব্যাপক সাড়া ও অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, এসব দাবি কোনো রাজনৈতিক দলের একক দাবি নয়; বরং জনগণের ন্যায্য দাবি।

কর্মসূচি অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বরে জনসভা শেষে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ শুরু হবে। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ শেষ হবে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির আবু জাফর কাসেমীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা লংমার্চে নেতৃত্ব দেবেন।

লংমার্চে বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা। পথসভাগুলোতেও ব্যাপক জনসমাগম হবে বলে তারা আশা করছেন।

১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের দাবিতেই এ লংমার্চ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তারা কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

একই সাথে তারা কর্মসূচি পালনে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। দলের নেতাকর্মীদেরও ধৈর্য, সাহস ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।