রফিকুল ইসলাম খান

জুলাই আন্দোলন গাইড করতে কমিটি করেছিল জামায়াত

তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে এটা এখন স্বীকৃত। মানুষ ভোট দিয়েছে জামায়াতের পক্ষে। দাঁড়িপাল্লার পক্ষে। ১১ দলীয় জোটের পক্ষে। কিন্তু ভোট গণনা করে ঘরে ওঠানোর সামর্থ্য আমাদের ছিল না। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের দুর্বলতা আছে। যার কারণে আল্লাহ আমাদের আগামীতে ক্ষমতায় যেতে কোমরটা আরেকটু শক্ত করার সুযোগ দিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীনের ঢাকা বিভাগীয় মুফাসসির সম্মেলন
বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীনের ঢাকা বিভাগীয় মুফাসসির সম্মেলন |ছবি : নয়া দিগন্ত

জুলাই আন্দোলন গাইড করার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটা কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছিল জানিয়ে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ওই ছোট কমিটির দায়িত্বে ছিলাম আমি। ওই সময়ে সব ঘটনা এখনো আমার চোখের সামনে ভাসে। আন্দোলন কিভাবে হলো আর কোন দিন কোন ঘটনা ঘটল সবই।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীনের ঢাকা বিভাগীয় মুফাসসির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এবং ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা আব্দুল হালিম।

মজলিসুল মুফাসসিরীনের ঢাকা বিভাগীয় সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে আরো বক্তৃতা করেন তামিরুল মিল্লাতের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরীনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ, সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল আমিন এমপি, মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা আলী হাসান ওসামা প্রমুখ।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশের ইলেকশনের রাজনীতির ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ বিরোধী দল আমরা। বেগম জিয়া একবার বিরোধী দলে ছিলেন ১০০ বেশি সিট নিয়ে। শেখ হাসিনা একবার বিরোধী দলে ছিলেন আমাদের চেয়ে একটু বেশি সিট নিয়ে। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস হলো যদি ধারাবাহিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া চালু থাকে পরপর দুই দলের ক্ষমতায় আসার কোনো নজির নেই। সে হিসেব করলে তো পরবর্তী সরকার আমরাই গঠন করবো ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে পছন্দ করছে বলেই এত ভোট দিয়েছে। এবার জামায়াত যে পরিমাণ ভোট এককভাবে পেয়েছে এর চেয়ে কম ভোট পেয়ে বেগম খালেদা জিয়া একবার সরকার গঠন করছে। ১৯৯১ সালে যখন বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে তখন বিএনপি ভোট পেয়েছিল ৩১%। আর জামায়াত এবার ভোট পেয়েছে এককভাবে ৩২%। তার মানে অতীতে যারা সরকার গঠন করছে- এরকম সরকার গঠন করার মতো ভোট জামায়াত এবারই পেয়ে গেছে।

ফ্যাসিবাদী আমলে মুফাসসিররা স্বাধীনভাবে তাফসীর করতে পারেননি জানিয়ে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমরা রাজনৈতিক দলগুলো ১৭ বছর আন্দোলন করেছি, কিন্তু হাসিনাকে সরাতে পারিনি। হাসিনা এভাবে বিদায় নেবে এটা ছিল কল্পনার বাইরে। দেশী-বিদেশী কোনো রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বিশ্লেষণেও এখন পর্যন্ত এটা ধরা পড়েনি যে, হাসিনা এভাবে পালিয়ে যাবেন। আল্লাহর ইশারায় তিনি পালিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে এটা এখন স্বীকৃত। মানুষ ভোট দিয়েছে জামায়াতের পক্ষে। দাঁড়িপাল্লার পক্ষে। ১১ দলীয় জোটের পক্ষে। কিন্তু ভোট গণনা করে ঘরে ওঠানোর সামর্থ্য আমাদের ছিল না। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের দুর্বলতা আছে। যার কারণে আল্লাহ আমাদের আগামীতে ক্ষমতায় যেতে কোমরটা আরেকটু শক্ত করার সুযোগ দিয়েছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ওয়াজের উদ্দেশ্য মানুষকে আল্লাহভীতি ও আখিরাতমুখী করা। এমন কোনো বক্তব্য দেয়া উচিত নয়, যা মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে বা ইসলামের ভাব-মর্যাদা ক্ষুন্ন করে।

তিনি আরো বলেন, দেশে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলনের অগ্রযাত্রাকে শক্তিশালী করতে আলেম-ওলামাদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে হবে। ইসলামী অঙ্গনে বিভেদ সৃষ্টি করে- এমন বক্তব্য ও উসকানিমূলক ভাষা পরিহার করতে হবে।

মাওলানা হালিম বলেন, সাধারণ মানুষ আলিয়া, কওমি, সুন্নি, সালাফি বা আহলে হাদিসের বিভেদ বোঝে না। তারা চায় ইসলামের দাওয়াত ও নৈতিক নেতৃত্ব। তাই মতপার্থক্য থাকলেও তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত, জনসম্মুখে পারস্পরিক কটূক্তি নয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে জাতীয় সংসদে টুপি-দাড়িধারী অনেক প্রতিনিধি রয়েছেন। এটি দেশের জন্য ইতিবাচক দিক। যারা আলেমদের মধ্যে বিরোধ উসকে দিতে চান, তারা মূলত ইসলামী শক্তির অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চান। তিনি ওয়াজেয়িনদের রাষ্ট্রীয় আইন ও সামাজিক শৃঙ্খলার বিষয় বিবেচনায় রেখে দায়িত্বশীল বক্তব্য দেয়ার আহ্বান জানান।