ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধের কথা তুলে ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কোনো ফ্যাসিস্ট শাসকের পতনের পর তাকে আবার ক্ষমতা বা রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায় না। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে রাজনীতি করতে চাইলে তা জনগণ মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস বাস্তবায়ন কমিটি।
রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিস্টের পতন হলে পরে তাকে ফেরত আনা যায় না। যে রক্তের আল্পনা সে এঁকেছে, সেই রক্তের আল্পনা মাড়িয়ে আবার সে এ দেশে রাজনীতি করবে—এটা কী করে সম্ভব? এটা সেই দেশ, যে দেশ বারবার প্রতিরোধ করেছে, প্রতিরোধ করতে জানে। শেখ হাসিনা যদি এ দেশে ফেরত এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া খানের যে উত্তরসূরি আছে, টিক্কা খানের যে উত্তরসূরি আছে, তাদেরও আনতে হবে।’
বিএনপির সিনিয়র এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, শিশু, কিশোর ও তরুণ হত্যার দায় কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। ইতিহাসে হিটলার কিংবা মুসোলিনির মতো শাসকদের পতনের পর তাদের রাজনৈতিক ধারাও আর ফিরে আসতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ রক্তপাত ও দমন-পীড়নের রাজনীতি মেনে নেয় না।
রিজভীর দাবি, ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিরোধী মত দমনে ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, সাবেক আইজিপির বক্তব্য থেকেই সেই সময়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, মানুষের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতারণা ও জনগণকে বিভ্রান্ত করাই তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এখন কেউ কেউ দেখি টকশোতে একটু একটু করে গলার আওয়াজ করছে, এই শেখ হাসিনার আমলে এই হয়েছে, সেই হয়েছে এত উন্নতি হয়েছে–কেন একটা বড় দল তাকে কেন ইয়ে (নিষিদ্ধ) দেয়া হবে, রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না, শেখ হাসিনা চলে আসতে হবে, শেখ হাসিনা যদি এতই পাওয়ারফুল হন, তে পালালেন কেন?’
তারেক রহমানের এই উপদেষ্টা বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর দীর্ঘ সময় ভারতে অবস্থান করলেও তাকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়নি। অথচ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার এক আসামিকে ভারত শেখ হাসিনার সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছিল। এই উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়া প্রয়োজন।
জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান যে অঙ্গীকার করেছেন, তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবেই।’
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রশাসন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান প্রমুখ।



