প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কথা দিয়েছে। সে মোতাবেক ৬ মাসে আড়াই কোটি গাছ লাগাতে হবে। সেখানে সরকার তিন কোটি গাছ লাগানো হয়েছে।
আজ বুধবার রাজধানীর উত্তরায় এক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, জনগণকে এবং স্কুলের যারা শিক্ষার্থী-শিশু, তাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে- একজন শিশু, একটি বৃক্ষ। অর্থাৎ, একটা শিশু তার বাড়ির আঙিনায় বৃক্ষ রোপণ করবে। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা পৃথিবীতে মানুষের বাঁচার অন্যতম উপাদান হচ্ছে বৃক্ষ। বৃক্ষের সদস্য যত বাড়বে, ততই আমাদের বায়ু নির্মল হবে এবং আজকে পৃথিবীব্যাপী যে উষ্ণতা বাড়ছে, সেটা অনেকটাই নির্মল হবে। আমরা বিশুদ্ধ অক্সিজেন পাব।
তিনি বলেন, বিরোধী দল তার কর্মসূচি করতে পারে, এটা শেখ হাসিনার আমল না। এই তো গণতান্ত্রিক বিরোধী দল, তারা তাদের কর্মসূচি করবে, কথা বলবে; সরকার তার দায়িত্ব পালন করছে। অর্থাৎ দ্রুততার সাথে, আমি বলেছি মহেশখালীতে আমাদের যে গ্যাসের টার্মিনাল, সেটাতে কারিগরি ত্রুটি হয়েছিল। সেটা এখন ঠিক হয়ে এসেছে। এখানে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হলে আপনারা দেখবেন যে এক সপ্তাহের মধ্যে ইনশাল্লাহ গ্যাসের সচল সরবরাহ নিশ্চিত হবে। সঙ্কট দূর হবে। রান্নাঘরে এখন যে গ্যাসের অভাবের কারণে চুলা জ্বলছে না, সেখানে আবার চুলা জ্বলতে থাকবে। একেবারেই জ্বলছে না তা না, ধীরগতিতে চলছে। এবং মিল-কারখানার জন্য যে পর্যাপ্ত জ্বালানি দরকার, সেই জ্বালানির ব্যবস্থা ইনশাআল্লাহ এক থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যাবে। এটা সরকারি কমিটমেন্ট।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, জনগণের এই যে দুর্ভোগ, এই দুর্ভোগ নিরসন করার জন্য ইতোমধ্যেই বাজেটের ওপর দ্রুত এই এলএনজি কেনা ও জ্বালানি কেনার জন্য সরকার আরো ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সরকার বসে নেই। আর এটা সরকারের কারণে বা সরকারের ত্রুটির কারণে নয়; এটা গ্লোবালি, এখন যুদ্ধ হচ্ছে, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ এবং ওই হরমুজ প্রণালী দিয়ে সবচাইতে বেশি জ্বালানির জাহাজ আসে, কার্গো আসে। ১৪০ থেকে ১৪৫টি জাহাজ আসে। সেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ, সেখানে সবাই ভয় পাচ্ছে যে কোথায় মাইন আছে। আবার আকাশ থেকে এসে বোমা ফেলছে, যেহেতু যুদ্ধ চলছে, তাই ওখান দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এটা তো একটা সঙ্কট, এটা একটা গ্লোবাল সঙ্কট। এখন এটার নিরসনের জন্য পূর্বদিকে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বার্মা- প্রত্যেকটি জায়গায় আমাদের সরকার উদ্যোগী ভূমিকা পালন করছে, যাতে দ্রুত এটি মোকাবেলা করা যায় সেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।



