সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে তুমুল হট্টগোল : ডেপুটি স্পিকারের রুলিং

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ কার্যদিবসে ৩০০ বিধিতে দেয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতিকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদ অধিবেশন
জাতীয় সংসদ অধিবেশন |ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের নিখোঁজ হওয়া, তাকে উদ্ধারের ঘটনা এবং তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া বিবৃতিকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তুমুল হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে।

বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা: সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের বিবৃতির বিরোধিতা করলে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের রুলিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

আজ রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ কার্যদিবসে ৩০০ বিধিতে দেয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতিকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় ৮-১০ মিনিট সংসদে হইচই শুরু হয়। অচলাবস্থা দেখা দেয়।

৩০০ বিধিতে দেয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গত ১১ জুন কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। তবে পুলিশি অনুসন্ধানে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে এক নারীর সাথে জিসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে জিসান তাকে জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার ওষুধ খাওয়ান বলে অভিযোগ রয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘গত ১২ জুন বিয়ের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও ১১ জুন রাতে বিয়ের পিঁড়িতে না বসার উদ্দেশ্যে জিসান নিজেই আত্মগোপনে যান। পরে পুলিশ তাকে লাকসাম এলাকা থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদি হয়ে জিসানসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।’ ইতোমধ্যে দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘জিসানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সরকারকে দায়ী করার চেষ্টা করেছেন। প্রকৃত ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরতেই সংসদে এ বিবৃতি দেয়া হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরপরই বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, ৩০০ বিধিতে দেয়া বিবৃতির পর এ বিষয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ নেই।

তবে বিশেষ বিবেচনায় বক্তব্যের সুযোগ পেয়ে ডা: তাহের বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি অসংসদীয় এবং এটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ) করতে হবে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘একটি অনিষ্পন্ন ও বিতর্কিত বিষয় সংসদে এনে একটি রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।’

তিনি প্রশ্ন তোলেন, জিসান বর্তমানে কোথায় রয়েছেন এবং কুমিল্লা পুলিশ কেন জিসান বা অভিযোগকারী নারীর সাথে সাংবাদিকদের কথা বলতে দিচ্ছে না।

এরপরই সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল শুরু হয়। উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানালে সংসদ কক্ষে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার সদস্যদের আসনে বসার আহ্বান জানান। তিনি রুলিং দিয়ে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে যদি কোনো অসংসদীয় ভাষা বা সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী বিষয় থেকে থাকে, তবে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজন হলে এক্সপাঞ্জ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ডেপুটি স্পিকারের এ রুলিংয়ের পর পরিস্থিতি শান্ত হলে সংসদের পরবর্তী কার্যসূচি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।