স্পিকার পক্ষপাতিত্ব করেছেন : বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জনগণের দুর্ভোগ যখন একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন জনগণের পক্ষে কথা বলা বিরোধী দলের দায়িত্ব। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণও সেটিই।

সংসদ প্রতিবেদক
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম |ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করার পর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের কটূক্তি করা হলেও স্পিকার নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখেননি বলে দাবি করেন তিনি। নাহিদ বলেন, ‘আজকে আমরা দেখলাম, স্পিকার একটু পক্ষপাতিত্ব করলেন এবং বিরোধীদলের সাথে বৈষম্য করলেন।’

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনের বৈঠক থেকে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের ওয়াকআউটের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, স্পিকার বিরোধী দলকে ‘অসহিষ্ণু’ হিসেবে তুলে ধরারও ইঙ্গিত দেয়ার চেষ্টা করেছেন। অথচ গত ছয় মাসে বিরোধী দল সরকারকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেছে এবং দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপির আমলে বিরোধীদল যে আচরণ করেছিল, তার কিছুই কিন্তু এই বিরোধী দল করেনি। বরং গত ছয় মাস আমরা সরকারকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেছি এবং সহযোগিতার কথা বলে এসেছি।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জনগণের দুর্ভোগ যখন একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন জনগণের পক্ষে কথা বলা বিরোধী দলের দায়িত্ব। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণও সেটিই।

তিনি বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত ও শফিকুল ইসলাম মাসুদ গত ১৮০ দিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন। পুলিশ সদর দফতরের তথ্যের সাথে সরকারের দায়িত্ব নেয়ার আগের ছয় মাসের পরিস্থিতির তুলনা করে জানতে চাওয়া হয়- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে সরকার কতটা সক্ষম হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন কি না।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে সাধারণ মানুষ ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হত্যা, ধর্ষণ, হামলা, ক্যাম্পাসে সহিংসতা এবং বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটছে। সংসদ সদস্যদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব তথ্য শুধু বিরোধী দলের বক্তব্য নয়, পুলিশ সদর দফতরের তথ্য ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপাত্তেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, এসব প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের কটূক্তি করেছেন। এর তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি করা হলেও স্পিকারের ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, বৃহস্পতিবার সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলসহ তিনটি বিল উত্থাপনের জন্য আনা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা এসব বিলের বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিচ্ছিন্নভাবে না এনে গণভোটের গণরায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্কার প্রক্রিয়ার সাথে সমন্বয় করে আলোচনা করা উচিত।

তিনি অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারসংক্রান্ত অধ্যাদেশ ও আইনগুলো নিয়ে বিশেষ কমিটিতে আলোচনার কথা থাকলেও সে সুযোগ দেয়া হয়নি। এখন সরকার নিজেদের মতো করে এসব বিল বিচ্ছিন্নভাবে সংসদে এনে পাস করানোর চেষ্টা করছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা সংসদে এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা দেখতে পাচ্ছি। সরকারের পক্ষ থেকে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে স্পিকার ও সরকারি দল এককভাবে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে।’

এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বলে জানান তিনি।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়ে বলেন, ওই পরিষদের মাধ্যমেই গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। একইসাথে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারসংক্রান্ত যেসব অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে, সেগুলো পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ারও দাবি জানান তিনি।