৭২ থেকে ৭৫ সময়ে গণতন্ত্রকে কবরে পাঠিয়েছিল আ’লীগ : মঈন খান

‘সংসদের ভেতরে মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে বাকশাল সৃষ্টি করেছিল। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার হরণ করেছিল।’

অনলাইন প্রতিবেদক
বক্তব্য রাখছেন ড. আব্দুল মঈন খান
বক্তব্য রাখছেন ড. আব্দুল মঈন খান |নয়া দিগন্ত

মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলে দাবিদার আওয়ামী লীগ কাপুরুষের মতো পালিয়ে গিয়েছিল বলে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। এ সময় তিনি বলেন, ১৯৭২ থেকে ’৭৫ সময়কালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ‘কবরে পাঠিয়ে দিয়েছিল’।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়বাদী মৎস্যজীবী দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ড. মঈন খান বলেন, ‘৭২ থেকে ৭৫ সময়টায় আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কবরে পাঠিয়ে, সংসদের ভেতরে মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে বাকশাল সৃষ্টি করেছিল। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার হরণ করেছিল।’

জিয়াউর রহমান জীবনী তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের জীবনের যে আদর্শ, সেটা হচ্ছে সততা। তার জীবনের যে কর্মপদ্ধতি, সেটা হচ্ছে শৃঙ্খলা। আর তার জীবনের যে বিশ্বাস, সেটি হচ্ছে দেশপ্রেম।’

বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এ নেতা বলেন, ‘তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশ যখন একটি কঠিন সময়ে, একটি চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন নিজের জীবনকে বাজি রেখে জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে গিয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন- বাংলাদেশ স্বাধীন। সেই স্বাধীনতার ঘোষণায় উদ্দীপ্ত হয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) তখন প্রায় সাড়ে সাত কোটি থেকে আট কোটি মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কখন ঝাঁপিয়ে পড়েছিল? যখন স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলে দাবিদার আওয়ামী লীগ কাপুরুষের মতো পালিয়ে গিয়েছিল। শহীদ জিয়া কিন্তু নিজের জীবনের মায়া করেননি।’

ড. মঈন খান বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের ইতিহাস শুধু মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাতেই শেষ হয়ে যায়নি। পরবর্তী সময়ে জাতির আরেকটি ক্রান্তিকাল—৭ নভেম্বর, ১৯৭৫ সাল। সেই ক্রান্তিকালে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মুখে তাকে এ দেশের মানুষ পুনরায় ভালোবেসে ডেকে এনে এ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিল।’

‘এখানে মনে রাখতে হবে, ৭২ থেকে ৭৫—যে সময়টায় আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কবরে পাঠিয়ে, সংসদের ভেতরে মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে বাকশাল সৃষ্টি করেছিল; বাংলাদেশের মানুষের অধিকার হরণ করে নিয়েছিল; বাংলাদেশের মানুষের কথা বলার অধিকার হরণ করে নিয়েছিল; তাদের অর্থনৈতিক অধিকার হরণ করে নিয়েছিল এবং একদলীয় শাসন কায়েম করে বাংলাদেশের জন্মের যে আদর্শ, সেই আদর্শ থেকে বিচ্যুত করেছিল। সেখান থেকে মুক্তি দেয়ার জন্যই সেই সিপাহী-জনতার বিপ্লবের ফলশ্রুতিতে এসেছিলেন জিয়াউর রহমান।’

মঈন খান বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় সাড়ে তিন বছর এফেক্টিভলি বাংলাদেশের দায়িত্বে ছিলেন। আজকে চিন্তা করলে অবাক হতে হয়, মাত্র সাড়ে তিন বছরে তিনি সেই ধ্বংসপ্রায় বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি সম্মানজনক জাতি হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘ভুলে যাবেন না, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনবদ্য যে সৃষ্টি, সেটির নাম হচ্ছে ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’। তিনি বলেছিলেন, এখানে শুধু বাঙালি বললে হবে না। এটি একটি দেশ, ছোট্ট একটি দেশ, জনসংখ্যা বৃহৎ। এখানে বাঙালি আছে, এখানে মারমা আছে, এখানে চাকমা আছে, এখানে হাজং আছে, এখানে মং আছে, এখানে সাঁওতাল আছে। সবাই মিলে একটি সুন্দর ফুলের মালা যদি আমরা তৈরি করি, যেখানে প্রত্যেকটি জাতি একেকটি ছোট্ট ছোট্ট ফুল—সেই ফুলগুলোর সমাহারে যে মালাটি তৈরি হবে, সে মালার নাম হচ্ছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। এটা ছিল জিয়াউর রহমানের যে ধারণা, আদর্শ।’

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, মৎসজীবী দলের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুর রহিম প্রমুখ।