হামিদুর রহমান আযাদ

৭০ অনুচ্ছেদের কারণেই স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারছেন না এমপিরা

তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়-পরাজয়ই মূল বিষয় নয়। বরং প্রতিটি নির্বাচনে জনগণের মতামত প্রকাশের সুযোগ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করাই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।

বিশেষ সংবাদদাতা
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ |নয়া দিগন্ত

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না। এতে যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও সঠিক জনপ্রতিনিধিত্ব এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়-পরাজয়ই মূল বিষয় নয়। বরং প্রতিটি নির্বাচনে জনগণের মতামত প্রকাশের সুযোগ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করাই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।

সোমবার আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে ইসি সচিব আখতার আহমেদের থেকে কনেল (অব.) অলি আহমেদের পক্ষে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে ব্রিফিং এ এসব মন্তব্য করেন তিনি। এসময় ১১ দলীয় জোটের কয়েকজন এমপি ও প্রতিনিধিরা ছিলেন।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জয়-পরাজয় নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেই কেবল নির্বাচনে অংশ নেয়া হবে- গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এমন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণযোগ্য নয়। বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে জনগণের সামনে বিকল্প তৈরি করা এবং ভোটের অধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করাই গুরুত্বপূর্ণ।

তার মতে, অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটের হিসাব-নিকাশে এক দলের তুলনামূলক শক্ত অবস্থান থাকলেও রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে কোনো একটি নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর জয় অনেকটা নিশ্চিত বলে মনে হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলে সেটি গণতন্ত্রের জন্য কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করে না।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল এবং গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে মতামত দিয়েছে, তার বাস্তবায়ন হওয়া প্রয়োজন। জনগণকে ভোটাধিকার দেয়ার পাশাপাশি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরও স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও ভোট দেয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ১১ দলীয় জোট।

জামায়াত নেতার প্রশ্ন, একদিকে যদি জনগণকে ভোটাধিকার দেয়া হয়, অন্যদিকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার সুযোগ সীমিত থাকে, তাহলে সংসদীয় গণতন্ত্র কতটা কার্যকর হচ্ছে?

ড. হামিদুর বলেন, জুলাই সনদে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার সুযোগ না থাকলে সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্বের প্রকৃত অর্থ ক্ষুণ্ণ হয়। এ কারণেই রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের আলোচনায় ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টি বারবার সামনে আনা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতপ্রকাশ ও ভোট দেয়ার অধিকার নিশ্চিত করা গেলে সংসদীয় গণতন্ত্র আরো শক্তিশালী হবে।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে একজন প্রবীণ রাজনীতিক ও খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে (অলি আহমেদ) বেছে নেয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের একজন সাবসেক্টর কমান্ডার, দীর্ঘদিনের সংসদ সদস্য এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিক।

একইসাথে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।