পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদের অভিযোগ যুবদলের

দলীয় বাধ্যবাধকতার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটির আকার ছোট রাখতে যোগ্যতা সম্পন্ন সব নেতাকর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি, এটি একটি রুঢ় বাস্তবতা। তবে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দলের হাইকমান্ডের সাথে নিরবিচ্ছিন্ন আলোচনা বজায় রেখেছেন এবং ইতিবাচক ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন।

অনলাইন প্রতিবেদক
যুবদল লোগো
যুবদল লোগো |ইন্টারনেট

পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলক ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে যুবদল। সংবাদ প্রকাশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযোগ করে যুবদল।

যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় একই ধরনের তথ্য ও শিরোনাম কিছুটা পরিবর্তন করে প্রকাশিত এসব সংবাদ বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতিমালা এবং পেশাগত মানদণ্ডের পরিপন্থী। বাস্তব তথ্য এবং সংগঠনের চলমান কার্যক্রমের সঠিক প্রতিফলন ছাড়াই যুবদল সম্পর্কে এমন চূড়ান্ত ও নেতিবাচক মন্তব্য করা অনভিপ্রেত।

আরো বলা হয়, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক যুবসংগঠন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এটি গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবাধিকার এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপির নেতৃত্বে যুবদলের ৮২টি সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে অংশ নেন। আন্দোলন সফল করতে গিয়ে যুবদলের ৭৮ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন, শত শত কর্মী পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় বাধ্যবাধকতার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটির আকার ছোট রাখতে যোগ্যতা সম্পন্ন সব নেতাকর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি, এটি একটি রুঢ় বাস্তবতা। তবে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দলের হাইকমান্ডের সাথে নিরবিচ্ছিন্ন আলোচনা বজায় রেখেছেন এবং ইতিবাচক ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন। বর্তমানে কেন্দ্রের নির্দেশনায় দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম, ইউনিট পুনর্গঠন, সদস্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক কর্মসূচি সফলভাবে ও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

যুবদল সবসময় সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। কোনো ধরনের বেআইনি, অনৈতিক বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপকে সংগঠন কখনো প্রশ্রয় দেয় না। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কারো বেআইনি কর্মকাণ্ডের সুযোগ নেই। অভ্যন্তরীণ তদন্তে কারো বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের প্রমাণ মিললে সব রকম অনুরাগ-বিরাগের ঊর্ধ্বে উঠে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়, যা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।

যুবদলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এসব বাস্তবতা ও ত্যাগের ইতিহাস উপেক্ষা করে সংগঠনকে ’মৃতপ্রায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করা কোনো তথ্যনির্ভর মূল্যায়ন নয়, বরং এটি একটি একপাক্ষিক ও বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা। একটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের উচিত মতামত ও সংবাদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা। কোনো সংগঠন সম্পর্কে মূল্যায়নধর্মী মন্তব্য করার আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য, পরিসংখ্যান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া উচিত। দুঃখজনকভাবে আলোচিত প্রতিবেদনগুলোতে সেই ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি।

গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রকাশ এবং প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।