এমপি হানজালাকে নিয়ে রাশেদ খানের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা

মহাসচিব অবিলম্বে রাশেদ খানকে তার কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান। একইসাথে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে শালীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার জন্য সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর প্রতি আহ্বান জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক
মাওলানা সাঈদ উদ্দীন আহমদ হানজালা ও রাশেদ খান
মাওলানা সাঈদ উদ্দীন আহমদ হানজালা ও রাশেদ খান |সংগৃহীত

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদ সদস্য মাওলানা সাঈদ উদ্দীন আহমদ হানজালাকে নিয়ে একটি টেলিভিশন টকশোতে বিএনপির সাবেক সংসদ প্রার্থী রাশেদ খান কর্তৃক প্রদত্ত অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।

রোববার(২১ জুন) এক বিবৃতিতে মহাসচিব বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হওয়া রাশেদ খান গতকাল একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূতভাবে সংসদ সদস্য মাওলানা সাঈদ উদ্দীন আহমদ হানজালার নামের সাথে ‘হারামজাদা’র মতো অত্যন্ত আপত্তিকর, অশালীন ও নিন্দনীয় শব্দ উচ্চারণ করেছেন। আমরা এই জঘন্য, কুরুচিপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছি।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্য মাওলানা সাঈদ উদ্দীন আহমদ হানজালা এ দেশের একটি ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান। তার শরীরে ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী সংস্কারক ও ফরায়েজী আন্দোলনের অগ্রদূত হাজী শরীয়তুল্লাহ রহ:-এর রক্তধারা প্রবাহিত। এমন একজন ব্যক্তিকে এ ধরনের জঘন্য ভাষায় আক্রমণ করা শুধু তার ব্যক্তিগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়; বরং দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং আলেম সমাজের প্রতিও অবমাননার শামিল। আমরা মনে করি, এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে রাশেদ খান তার অতীতের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সব ইতিবাচক ভূমিকাকেই প্রশ্নবিদ্ধ ও কলঙ্কিত করেছেন।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, প্রায় এক মাস আগে একটি স্থানীয় সালিশ বৈঠকে সংসদ সদস্য হানজালার দেয়া বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া একটি খণ্ডিত ও সম্পাদিত ভিডিওকে কেন্দ্র করেই রাশেদ খান টকশোতে এই নোংরা ও ভিত্তিহীন আক্রমণ চালিয়েছেন। প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে এবং বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট না জেনে একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তির এমন বিভ্রান্তিকর ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বেরই বহিঃপ্রকাশ।

মহাসচিব অবিলম্বে রাশেদ খানকে তার কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান। একইসাথে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে শালীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার জন্য সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর প্রতি আহ্বান জানান।