প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। জিয়াউর রহমান এদেশের বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার সন্তানসহ বন্দী ছিলেন ওই সময়, তিনিও একজন মুক্তিযোদ্ধা।
তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের এই পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনা এমন কোনো কাজ নেই যা করেননি। কারণ মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের অবদান নেই; না তার পিতার, না তার নিজের। তারা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছে। এই কারণেই প্রতিহিংসা- কেন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করলেন? কেন স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়ে তার পরিবার, তার স্ত্রী, তার দুই পুত্র বন্দী অবস্থায় রইল? জনগণের মধ্যে তার (জিয়া পরিবার) এই যে দেশপ্রেম এবং জনপ্রিয়তা, শেখ হাসিনা কোনোদিনই তা বরদাস্ত করতে পারেনি। তাই একের পর এক যন্ত্রণা দিয়েছে।
আজ বুধবার বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বনানীতে তার কবর জিয়ারত শেষে এ কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, মরহুম আরাফাত রহমান কোকো এমন এক পরিবেশে, এমন এক পরিস্থিতিতে তিনি পৃথিবী থেকে চলে গেলেন! এই যাওয়াটাও ফ্যাসিবাদের এক চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশের মুখে। তিনি আর নিজেকে ধাতস্থ করতে পারেননি, নিজেকে আর সামলাতে পারেননি। হৃদরোগের রোগী ছিলেন, অসুস্থতা ছিল। তিনি হৃদরোগের এই পরিস্থিতিতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে পৃথিবী থেকে চলে গেলেন।
তিনি বলেন, বালুর ট্রাক দিয়ে বন্দী মা বেগম খালেদা জিয়া, ঠিক ওই মুহূর্তে আপন সন্তানের লাশ তার কোলে, এই হৃদয়বিদারক ঘটনা, এই মর্মান্তিক ঘটনা, এই ট্র্যাজেডি, এই বিয়োগান্তক ঘটনার কথা আমার মনে হয় কোনো মহাকাব্যে লেখা আছে কিনা, কোনো ধরনের পৃথিবীর কোনো বিয়োগান্তক ঘটনার সাথে এটার মিল আছে বলে আমার মনে হয় না। সমস্ত বিয়োগান্তক ঘটনা ও ট্র্যাজেডিকে অতিক্রম করে গেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা! মায়ের কোলে সন্তানের লাশ- এটা যে কত বড় হৃদয়ভাঙা একটি ঘটনা, সেটা বলা যাবে না। সেটা সম্পূর্ণরূপে ছিল একটি প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ একজন শাসকের, অবৈধ শাসকের, ফ্যাসিবাদী শাসকের।
তিনি আরো বলেন, সে (শেখ হাসিনা) একটি পরিবারকে নানাভাবে পর্যুদস্ত করার জন্য, জনগণের মধ্যে তার যে উপস্থিতি এবং তার যে জনপ্রিয়তা, সেটিকে মুছে দেয়ার জন্য এমন কোনো কৌশল নেই যা করেননি পলাতক স্বৈরাচারিনী শেখ হাসিনা। কলঙ্কলেপন করেছেন, অপপ্রচার করেছেন, মিথ্যাচার করেছেন; যার একটিও তিনি প্রমাণ করতে পারেননি। কেন করেছেন? তার একচ্ছত্র আধিপত্য এবং তার যে ক্ষমতায় টিকে থাকার বাসনা- এটাকে চরিতার্থ করার জন্য তিনি এই কাজগুলো করেছেন।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, জনগণের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। আজকে সেই তারেক রহমান- শহীদ জিয়া এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র, আজ অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী।



