বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালুর প্রত্যাশা প্রতিমন্ত্রীর

‘নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে। আমরা এর আগেই চুক্তিটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করব। আমরা আশা করছি, চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালটি চালু হয়ে যাবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর |বাসস

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) এবং জাপানি একটি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে চুক্তিটি ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে। আমরা এর আগেই চুক্তিটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করব। আমরা আশা করছি, চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালটি চালু হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, জাপানি কনসোর্টিয়ামটি টার্মিনালটির জন্য দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলারও নিয়োগ করবে। সিএএবি এবং জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব ভাগাভাগি সংক্রান্ত ব্যবস্থা নিয়ে মতবিরোধের কারণে তৃতীয় টার্মিনালটি প্রায় দেড় বছর ধরে অকার্যকর রয়েছে।

এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে- জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো কর্পোরেশন, নিপ্পন কোয়েই এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন। টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে সিএএবি এবং কনসোর্টিয়ামের মধ্যে বুধবার শুরু হয়ে আজ দুই দিনব্যাপী এক আলোচনা সভা শেষ হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মতে, জাপানি পক্ষের জমা দেয়া একটি সংশোধিত প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে আলোচনা হয়েছে, যার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল আরোহণ ফি, অগ্রিম অর্থ প্রদান এবং রাজস্ব ভাগাভাগি সংক্রান্ত ব্যবস্থা। এর আগে, টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা করতে বাংলাদেশ ও জাপান গত ৩ এপ্রিল একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছিল, যদিও সে সময় কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা টার্মিনালটি চালু হতে বিলম্বের জন্য বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের দীর্ঘ নীতিগত সিদ্ধান্তহীনতাকে দায়ী করেছেন, যার ফলে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও দেশের একটি প্রধান অবকাঠামোগত সম্পদ অব্যবহৃত রয়ে গেছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি পক্ষের সাথে আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন, যা নতুন করে আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছে। এর মধ্যে ১৩ মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

৫৪২ হাজার বর্গমিটার জুড়ে বিস্তৃত তৃতীয় টার্মিনালটি বছরে অতিরিক্ত ১২ থেকে ১৬ মিলিয়ন যাত্রী এবং প্রায় পাঁচ লাখ টন পণ্যসম্ভার সামলানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা বিমানবন্দরের ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।

সূত্র : বাসস