জুলাই বিপ্লব নিয়ে ঢাবিতে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ১৯ জুলাই

সম্মেলনে পাঁচটির বেশি প্যানেল আলোচনায় ১৫ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ অংশ নেবেন। পাশাপাশি নির্বাচিত ৮০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, জুলাই বিপ্লব, জবাবদিহি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাদিক কায়েমসহ ডাকসু নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন
সংবাদ সম্মেলনে সাদিক কায়েমসহ ডাকসু নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন |নয়া দিগন্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১৯ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে ‘জুলাই বিপ্লববিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন (আইসিজেআর-২, ২০২৬)’। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে দিনব্যাপী এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘জুলাই বিপ্লব ২০২৪-এর লিগ্যাসি: জবাবদিহি, সংস্কার ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’।

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সম্মেলনের বিস্তারিত তুলে ধরেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। এ সময় ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ, রিসার্চ অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড থট (আরআইটি)-এর প্রতিনিধি ড. আকরাম, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, সম্মেলনে জুলাই বিপ্লবের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষক, নীতিনির্ধারক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মতামত তুলে ধরবেন।

রিসার্চ অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড থট (আরআইটি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), ইয়ুথ ফর বেটার ফিউচার সোসাইটি, কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজিনা, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এবং সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিচার, মানবাধিকার ও নাগরিক সমাজভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনও সহযোগিতা করছে।

উদ্বোধনী পর্বে জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম বক্তব্য দেবেন। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখবেন সম্মেলনের আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচ. এম. মোশারফ হোসাইন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আনম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন অধ্যাপক ড. আ ফ ম খালিদ হোসাইন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের প্রতিনিধি হুমা খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মঈনুল ইসলাম চৌধুরী।

এ ছাড়া দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, নীতিনির্ধারক, আইনজীবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সম্মেলনে অংশ নেবেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ প্রোটোকল সেশনও অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনে পাঁচটির বেশি প্যানেল আলোচনায় ১৫ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ অংশ নেবেন। পাশাপাশি নির্বাচিত ৮০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, জুলাই বিপ্লব, জবাবদিহি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখবে।