সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল প্রায় ৫০ লাখ : রেলমন্ত্রী

অবৈধ মোটরসাইকেল বৈধ করার সুযোগ আছে, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে জোর দিচ্ছে সরকার

‘সড়ক ও মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেলের মালিকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করলে বিআরটিএ রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেয়ার ব্যবস্থা নেবে।’

সংসদ প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদ অধিবেশন
জাতীয় সংসদ অধিবেশন |নয়া দিগন্ত

দেশে বর্তমানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিবন্ধিত বৈধ মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯০টি। নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলের মালিকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলে সেগুলোও বৈধ করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সপ্তম দিনে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বিআরটিএ ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য তুলে ধরে বলেন, সড়ক ও মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেলের মালিকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করলে বিআরটিএ রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেয়ার ব্যবস্থা নেবে।

সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের পুরনো ও অকেজো রেললাইন উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করা সম্ভব নয়। কারণ ট্র্যাক পরিবর্তনের সময় ব্যবহারযোগ্য রেল সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরে রেল প্রতিস্থাপনের কাজে ব্যবহার করা হয়। অবশিষ্ট পুরনো রেল এমব্যাঙ্কমেন্ট সুরক্ষা ও অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে ফেন্সিং নির্মাণে কাজে লাগে। এতে রেলওয়ের নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় হয়।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, জেলা, আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে দ্রুত সংস্কার, সাইন-সিগন্যাল স্থাপন, স্পিডব্রেকার, জেব্রা ক্রসিং ও রাম্বল স্ট্রিপ নির্মাণের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ও গুরুতর আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা।

মন্ত্রী আরো জানান, পেশাজীবী চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়াতে বিআরটিএর মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের আগে বাধ্যতামূলক রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে। অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনা কমাতে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সরকার আশা করছে।