ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আব্দুস সালাম বলেছেন, অতীতে ঢাকা শহর যেভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার পাশে ছিল, তেমনি আজ ঢাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে রয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে নগরভবনে ‘৪১৬ হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসবের অংশ হিসেবে আয়োজিত ঢাকা শোভাযাত্রা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকার ঐতিহাসিক স্থানগুলোর রেপ্লিকা শোভাযাত্রায় প্রদর্শনের মাধ্যমে এসব স্থাপনা এবং রাজধানীর সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা ঢাকার গর্ব, একইসাথে দেশেরও গর্ব। নতুন প্রজন্মের কাছে ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, ‘এই ঢাকা আমার’-এই অনুভূতি নিয়ে সবাইকে ঢাকাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। ঢাকাকে হৃদয়ে ধারণ করতে পারলে শহরকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও মশামুক্ত রাখা সম্ভব হবে।
রাজধানীর বায়ুদূষণের প্রসঙ্গ তুলে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বায়ুদূষণের কারণে ঢাকা প্রায়ই বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় থাকে। ঢাকাকে হৃদয়ে ধারণ করে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে এ দূষণ কমিয়ে আনা সম্ভব। জনগণকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই ‘৪১৬ হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামীতে প্রধানমন্ত্রী সময় দিলে তাকে সাথে নিয়ে লালবাগ কেল্লায় চূড়ান্ত অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এতে ঢাকা মহানগরের সর্বস্তরের মানুষ, বিশেষ করে আদি ঢাকার বাসিন্দাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
‘হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসবের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে আব্দুস সালাম বলেন, ইতোমধ্যে সাইকেল র্যালি, ম্যারাথন, নৌকাবাইচ ও চিত্রাঙ্কন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী বছর আরো সুন্দর ও বড় পরিসরে এ উৎসব আয়োজন করা হবে।
তিনি জানান, আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগরের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের আজীবন শিক্ষার দায়িত্ব ঢাকা সিটি করপোরেশন নেবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘এই সিটি করপোরেশন ঢাকার জনগণের করপোরেশন। জনগণের সহযোগিতা নিয়েই এই সিটি করপোরেশন কাজ করবে।’ এ কাজে তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
ঢাকার ঐতিহাসিক স্থানগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তুলতে আগামী মাস থেকে প্রতি শনিবার স্কুলশিক্ষার্থীদের এসব স্থান পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে প্রতিটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশন দু’টি করে বাসের ব্যবস্থা করবে বলে জানান তিনি।
আব্দুস সালাম বলেন, ঐতিহাসিক স্থানগুলো পরিদর্শনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিজেদের শহর ও ইতিহাস নিয়ে গর্ববোধ তৈরি হবে। শহীদ মিনারসহ ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো মানুষের আত্মত্যাগ ও ইতিহাসের স্মৃতি বহন করছে। ঢাকা সব ধর্মের মানুষের শহর। ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের ঐতিহ্য ও স্মৃতি এ শহরের সাথে জড়িয়ে আছে।
নগর পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যত্রতত্র ময়লা ফেলা যাবে না। ডাস্টবিন ছাড়া ময়লা না ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মানুষ যেমন নিজের শয়নকক্ষ ও বসার ঘর সুন্দর রাখে, তেমনি ঢাকা শহরের রাজপথকেও সুন্দর রাখার চেষ্টা করতে হবে।
পুরান ঢাকা ও আদি ঢাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, তারা পুরান ঢাকাকে আরো সুন্দরভাবে সাজাতে চান। রাস্তাঘাট উন্নয়নের পাশাপাশি আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হবে। এমন পরিবেশ তৈরি করা হবে, যাতে পুরান ঢাকার যেসব বাসিন্দা বর্তমানে গুলশান-বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছেন, তারা আবার পুরান ঢাকায় ফিরে আসতে আগ্রহী হন।
হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নগরভবনে এসে শেষ হয়। বাসস



