মুসলিম বিশ্ব, তথা উন্মুক্ত মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষা ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে ‘মক্কা প্যাক্ট’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথমদিনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের যোগদান এবং এর সার্বিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি উত্থাপন করায় তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মক্কা প্যাক্ট নিয়ে বর্তমানে দেশজুড়ে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। এটি মূলত মুসলিম বিশ্বের নিজেদের সুরক্ষা ও আত্মরক্ষার একটি যৌথ ব্যবস্থা।’
তিনি আরো জানান, এই প্যাক্টে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে এই চুক্তির মূল উদ্যোক্তা ও বর্তমান সদস্য রাষ্ট্রগুলো যদি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে এতে যুক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান বা প্রস্তাব জানায়, তবে বাংলাদেশ সরকার অবশ্যই তা ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করবে।
চুক্তির ভালো-মন্দ দিক বিশ্লেষণ সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসার পূর্বেই এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা বা সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়তো সময়ের দিক থেকে খানিকটা আগাম হয়ে যাবে। তবে দেশের সার্বিক স্বার্থ, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিবেচনায় রেখে যা করা প্রয়োজন, সরকার সবসময় তা বিবেচনায় রাখবে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন, এটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর একটি আত্মরক্ষামূলক কাঠামো। সুতরাং মুসলিম বিশ্বের একটি দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় বৈশ্বিক মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্য ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করবে।
এ বিষয়ে অন্যদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।



