ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সরকার বিকল্প উৎসের পানি ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো: শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি বলেন, পানি সঙ্কটাপন্ন এলাকা চিহ্নিতকরণ, অ্যাকুইফার ম্যাপিং এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির পরিমাণ, গুণগত মান ও নিরাপদ উত্তোলনসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একইসাথে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ওপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সংসদে সরকারি দলের সদস্য খায়রুল কবির খোকন (নরসিংদী-১)-এর তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন জানান, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ায় জাতীয় পানি সম্পদ পরিষদের নির্বাহী কমিটি (ইসিএনডব্লিউআরসি) বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩-এর ধারা ১৭ ও ১৯ অনুযায়ী গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে গেজেটের মাধ্যমে বরেন্দ্র অঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও রাজশাহী জেলার ২৫টি উপজেলার ২১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৫৩টি ইউনিয়নকে পানি সঙ্কটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৪৭টি অতি উচ্চ, ৪০টি উচ্চ এবং ৬৬টি মধ্যম পানি সঙ্কটাপন্ন এলাকা রয়েছে।
তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাবার পানি ছাড়া নতুন নলকূপ স্থাপন ও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বন্ধ রাখা, বিদ্যমান নলকূপের মাধ্যমে শুধু খাবার পানি সরবরাহ, ফসলের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে দুই বছরের মধ্যে সেচে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা এবং প্রাকৃতিক জলাশয় জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখাসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকার বাস্তবায়নাধীন এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং দেশের পানিসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে। বাসস



