স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার পুলিশের ‘মাইলফলক’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শিশু রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত তদন্ত, চার্জশিট ও বিচার প্রক্রিয়া পুলিশের জন্য একটি ‘মাইলফলক’, এবং এ ধরনের সফলতায় সংশ্লিষ্টদের পুরস্কৃত করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ |নয়া দিগন্ত

শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যা মামলার দ্রুত তদন্ত, চার্জশিট ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে বাংলাদেশের পুলিশি ইতিহাসে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পুলিশের ভালো কাজের যথাযথ স্বীকৃতি দেয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হবে।

রোববার রাজধানীতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের মতো নৃশংস ঘটনায় সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী অত্যন্ত স্বল্প সময়ে ডিএনএ পরীক্ষা, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। আদালতও ঈদের ছুটির মধ্যেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এটি দেশের বিচারিক ও পুলিশি ইতিহাসে একটি মাইলফলক।’

তিনি বলেন, বিচার করেছে আদালত, তবে তদন্ত ও প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে পুলিশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের অংশগ্রহণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বৈজ্ঞানিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রামিসা হত্যা মামলার পাশাপাশি গোয়ালন্দ ঘাটে দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে বহু মানুষের প্রাণরক্ষা এবং গজারিয়ায় এক কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটনের ঘটনায়ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভালো কাজের জন্য যেমন পুরস্কৃত করব, তেমনি দায়িত্বে অবহেলা বা ব্যর্থতার জন্য তিরস্কারও করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশের অর্জন প্রশংসার দাবিদার।’

রামিসা হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের আগে আইন অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে শুনানি হতে হয়। তবে মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ডেথ রেফারেন্স শুনানি দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের নজরে আনা হবে।

সীমান্তে ‘পুশইন’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামীকাল থেকে নয়াদিল্লিতে চার দিনের বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক শুরু হবে। সেখানে সীমান্ত পরিস্থিতি ও অবৈধ অনুপ্রবেশের সব বিষয় গুরুত্বের সাথে আলোচিত হবে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ মেনে নেবে না। বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো পুশইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে প্রস্তুত। তবে এসব বিষয় কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, অপরাধ দমনে অভিযান চলমান রয়েছে। তবে অভিযানের বিষয়ে আগাম তথ্য প্রকাশ করা হবে না। একইসাথে মাদক ও জুয়া-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা দূর করে যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যাতে অপরাধীরা সহজে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, জনগণের সহযোগিতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন আরো সুদৃঢ় হবে।