জুলাই অভ্যুত্থানের শুরুতে আন্দোলন যখন স্তিমিত হয়ে আসছিল, তখন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই আন্দোলনের প্রাণভোমরা হয়ে উঠেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘৩৬শে জুলাই শহীদ স্মৃতি গার্ডেন’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিঃস্বার্থভাবে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহী নন। আন্দোলনের শুরুতে যখন গতি কিছুটা কমে যাচ্ছিল, তখন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই আন্দোলনের প্রাণভোমরা হয়ে ওঠেন।
অনুষ্ঠানে ‘৩৬শে জুলাই শহীদ স্মৃতি গার্ডেন’ উদ্বোধন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির শহীদ আসিফ ইকবালের বাবা আব্দুর রাজ্জাক।
শহীদ আসিফ ইকবালের বাবা আশা প্রকাশ করেন, দেশের যেকোনো সঙ্কটময় সময়ে ভবিষ্যতেও আসিফ ইকবালের মতো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসবেন। একইসাথে এ আয়োজনের জন্য ছাত্রশিবিরের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
নুরুল ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রশিবির সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদদের স্মরণে স্মৃতি গার্ডেন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া শিশু শহীদদের স্মরণেও পৃথক কর্মসূচি রয়েছে এবং প্রতিদিনই শহীদদের স্মরণে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আন্দোলনের সময় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উত্তরার বিএনএস সেন্টার, প্রগতি সরণি, রামপুরা ব্রিজ ও মিরপুরে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, যা আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে ‘৩৬শে জুলাই শহীদ স্মৃতি গার্ডেন’-এ ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রাণ উৎসর্গকারী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬ জন শহীদের নামে বৃক্ষরোপণ করা হয়।
প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার সভাপতি রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



