জনগণ-দেশ-গণতন্ত্রপন্থীদের আল্লাহ ধ্বংস করেন না : রিজভী

জাতীয়তাবাদী দর্শনের মধ্যে আছে বহুদলীয় গণতন্ত্র। এই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মধ্যে আছে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং শক্তিশালী করা। আজকে সেই দর্শন আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। ফ্যাসিবাদের আক্রমণে দেশ যখন বিপন্ন হয়, সেই সময় আমাদের সীমান্তে যখন মানুষ হত্যা হয়, তখন এই জাতীয়তাবাদ আমাদের চেতনা জোগায়।

অনলাইন প্রতিবেদক
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মেডিক্যাল ফ্রি ক্যাম্পেইন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন রুহুল কবির রিজভী
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মেডিক্যাল ফ্রি ক্যাম্পেইন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন রুহুল কবির রিজভী |নয়া দিগন্ত

বেগম খালেদা জিয়ার ওপর আওয়ামী লীগের অত্যাচার ও নির্যাতনের ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগের সময় বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা দেয়া হয়নি, তাকে নানাভাবে কষ্ট দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার মাথাকে নিচে নোয়াতে পারেনি শেখ হাসিনা। যারা জনগণের পক্ষে, দেশের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে, আল্লাহ তাদের কোনোদিন ধ্বংস করেন না। যতই অত্যাচার আসুক, যতই চক্রান্ত আসুক, তারা আবার ফিরে আসবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মেডিক্যাল ফ্রি ক্যাম্পেইন উদ্বোধন শেষে তিনি এ অভিযোগ করেন। ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে সব ধরনের মানুষের ফ্রি চিকিৎসা দিচ্ছেন বিএনপি।

রিজভী বলেন, স্বাধীনতা রক্ষা করা যাদের দৃঢ় প্রত্যয়, যারা অন্য কোনো দেশের দিকে তাকিয়ে থাকে না, সেই সমস্ত মানুষদের জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে রাজনৈতিক দর্শন তৈরি করেছিলেন, সেটা হচ্ছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।

তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী দর্শনের মধ্যে আছে বহুদলীয় গণতন্ত্র। এই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মধ্যে আছে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং শক্তিশালী করা। আজকে সেই দর্শন আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। ফ্যাসিবাদের আক্রমণে দেশ যখন বিপন্ন হয়, সেই সময় আমাদের সীমান্তে যখন মানুষ হত্যা হয়, তখন এই জাতীয়তাবাদ আমাদের চেতনা জোগায়। সীমান্তে যখন একের পর এক ফেলানীর মতো আত্মদান করছে, তখন এই জাতীয়তাবাদ আমাদের স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকার।

রিজভী বলেন, ক্ষণজন্মা মানুষটি যিনি বিএনপি গঠন করেছিলেন, তার এই রাজনৈতিক আদর্শটা ছড়িয়ে দেয়া এবং রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া যে পতাকা, তার রেখে যাওয়া যে অঙ্গীকার, আদর্শ এবং দর্শন- এটাকে আরো গতিশীল করেছিলেন তারই যোগ্য উত্তরসূরী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী দেশের প্রশ্নে আপস করেননি, গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস করেননি কারণ দেশপ্রেম আর গণতন্ত্র দু’টি অভিন্ন সত্তা। এই অভিন্ন সত্তাকে লালন করেছে বিএনপি। এই অভিন্ন সত্তার যে পতাকা, সেই পতাকাকে বহন করেছেন বেগম জিয়া। এবং এই বেগম জিয়া, তিনি নয় বছর সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু এর জন্য কোনো লোভ, কোনো প্রলোভন বা কারো কাছে তিনি মাথা নত করেননি। এক আপসহীন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারকে পরাজিত করে একটি অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে এই দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী এবং সারাবিশ্বে দ্বিতীয় মুসলিম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সবার কাছে সমাদৃত ছিলেন, সম্মানিত ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রে এই জাতীয়তাবাদী শক্তিকে প্রতিহত করার জন্য বিভিন্ন সময়ে জাতীয়-আন্তর্জাতিক চক্রান্তকারীরা নানাভাবে চেষ্টা করেছে। তার সর্বশেষ ছিল নানাভাবে চক্রান্ত করে দেশনেত্রীকে কারাগারে নিয়েছে, তার জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং বলিষ্ঠ নেতা তারেক রহমানকে কারাগারে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। সেই সমস্ত সঙ্কট অতিক্রম করে এবং খালেদা জিয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ও বীরত্বের মধ্য দিয়ে বিএনপি আবার জেগে উঠেছে। তাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করলেও সে আবার জেগে উঠেছে। আবার ১৬-১৭ বছর এক ঘৃণ্য, পৈশাচিক, নিষ্ঠুর এবং হিংসাশ্রয়ী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম চলেছে। তিনি নিজে সহ্য করেছেন অত্যাচার-নিপীড়ন, তার ওপর হয়ে গেছে অত্যাচারের ঝড়।

বেগম খালেদা জিয়ার গড়ে তোলার যে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, সেই সংগ্রামের এক চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে চব্বিশের জুলাই- এমন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, সেই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সে ভয়ঙ্কর এবং ঘৃণ্য ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে, তারা পালিয়ে যায়। আবার গণতন্ত্রের জয়যাত্রা শুরু হয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এখানে শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমান দেশ এবং দলের হাল ধরে ২০১৮ থেকে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, তৃণমূল, জেলা শহর, বিভাগীয় শহর এবং রাজধানীতে সব মানুষের সাথে, নেতাকর্মীর সাথে কথা বলে তিনি ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন দলকে এবং জাতিকে। এবং তারই বহিঃপ্রকাশ এই জুলাই আন্দোলন, জুলাই বিপ্লব।

তিনি বলেন, জনগণ একটি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন ১৭ বছর দেখতে পায়নি। জনগণ ভোট দিতে পারেনি, সুষ্ঠু নির্বাচন পায়নি, কারণ শেখ হাসিনা কেড়ে নিয়েছিল সুষ্ঠু নির্বাচন, অবাধ নির্বাচন। জনগণ অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দিলো চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি এবং সেই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি এবং বিএনপির জোট। দেশকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে, উন্নয়নের লক্ষ্যে গতিশীল করার নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান।