স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র নীতিমালায় বড় পরিবর্তন

কমছে ভোটকক্ষ

গত ৭ জুলাই বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় নির্বাচন কমিশনের আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব মো: রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত এই সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।

বিশেষ সংবাদদাতা
স্থানীয় নির্বাচনে কমছে ভোটকক্ষ
স্থানীয় নির্বাচনে কমছে ভোটকক্ষ |প্রতীকী ছবি

চলতি বছর শেষে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন এই সংশোধনীর ফলে এখন থেকে নির্বাচনের অনেক আগেই ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করতে হবে। একইসাথে প্রতিটি ভোটকক্ষে ভোটারের সংখ্যা বাড়িয়ে ভোটকক্ষের সংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তবে চাপ সামলাতে প্রতিটি কক্ষে একাধিক গোপন বুথ বা মার্কিং প্লেস স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

গত ৭ জুলাই বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় নির্বাচন কমিশনের আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব মো: রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত এই সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।

ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বৃদ্ধি

আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত বা প্রকাশের জন্য যে সময় নির্ধারণ করা ছিল, নতুন সংশোধনীতে তা আরো ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভোটাররা কেন্দ্র সম্পর্কে জানার জন্য বাড়তি সময় পাবেন। গেজেটের ৬৫৩০ নম্বর পৃষ্ঠার ক্রমিক ১-এর ১.২ এবং ১.৩ উপঅনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের তারিখের অন্যূন ১৫ (পনের) দিন আগে এই সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করার নিয়ম ছিল। সংশোধিত নীতিমালায় ‘১৫ দিন’-এর স্থলে অন্যূন ২৫ দিন আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

ভোটকক্ষ নির্ধারণ ও ভোটার বিন্যাসে পরিবর্তন

ইসি বলছে, ভোটকেন্দ্রে বুথ বা ভোটকক্ষ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণ নির্বাচন এবং উপনির্বাচন উভয় ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুরুষ ও নারী উভয় বুথেই ভোটারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

সাধারণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে : সংশোধনের আগে সাধারণভাবে প্রতি ৪০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য এবং ৩০০ থেকে ৩৫০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ (বুথ) নির্ধারণ করার নিয়ম ছিল। এখন থেকে ভোটার সংখ্যা বাড়িয়ে প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করতে হবে।

উপনির্বাচনের (একটি পদে) ক্ষেত্রে : সংশোধনের আগে উপনির্বাচনে একটি পদের জন্য সাধারণভাবে প্রতি ৫০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য এবং ৪০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ বরাদ্দ ছিল। সংশোধনের পর এখন উপনির্বাচনেও সাধারণ নির্বাচনের মতোই প্রতি ৬০০ জন পুরুষ ভোটারের জন্য এবং ৫০০ জন নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ভোটকক্ষে একাধিক গোপন কক্ষ স্থাপন

ভোটকক্ষ বা বুথের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে ভোটগ্রহণের গতি যেন ধীর না হয়, সেজন্য সংশোধিত নীতিমালায় একটি নতুন ও কার্যকর ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়মে এখন থেকে প্রতিটি ভোটকক্ষে (বুথে) ভোটারদের সুবিধার্থে এবং দ্রুত ভোটাদানের জন্য প্রয়োজনে একাধিক গোপনকক্ষ বা মার্কিং প্লেস স্থাপন করা যাবে।

অপরিবর্তিত নিয়মাবলী

নীতিমালার কিছু মৌলিক নিয়ম আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে। যেমন- গড়ে প্রতি দুই হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করতে হবে। প্রত্যেকটি সাধারণ ওয়ার্ডের জন্য ওই ওয়ার্ডের সীমানার মধ্যেই একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। তবে বাস্তবতার নিরীখে ও স্থানীয় প্রয়োজনে একাধিক ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা যাবে।

নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংশোধনের ফলে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় খরচ ও জনবল কিছুটা কমবে এবং দীর্ঘ সময় হাতে থাকায় কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা আরও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।