ডা. শফিকুর রহমান

জীবন দেবো, কিন্তু চব্বিশকে হারিয়ে যেতে দেবো না

সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্র যদি আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ না করে, তবে তা হবে একটি অকৃতজ্ঞ ও অভিশপ্ত রাষ্ট্রের পরিচয়। তিনি অবিলম্বে দেশের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের নামে নামকরণের দাবি জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের এক সোনালি অধ্যায়।

তিনি বলেন, জীবন দেবো, কিন্তু চব্বিশকে হারিয়ে যেতে দেবো না। একইসাথে তিনি জুলাইয়ের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং আহত যোদ্ধাদের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনের মুক্তিযোদ্ধা হলে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদকে স্মরণে সংগঠনটির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্র-জনতা একটি বৈষম্যহীন সমাজ, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজপথে রক্ত দিয়েছে। জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় দাবি ছিল সংস্কারের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং অতীতের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানানো।

তিনি বলেন, যে গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তা উপেক্ষা করা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সংসদ ও সরকার চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ফসল। তাই জুলাইয়ের অবদানকে অস্বীকার করা ভয়াবহ হীনম্মন্যতার পরিচয়।

শহীদ ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই।

সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্র যদি আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ না করে, তবে তা হবে একটি অকৃতজ্ঞ ও অভিশপ্ত রাষ্ট্রের পরিচয়। তিনি অবিলম্বে দেশের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের নামে নামকরণের দাবি জানান।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ কারো নির্দেশনায় পরিচালিত হবে না; বরং ১৮ কোটি মানুষের ইচ্ছাই হবে দেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে রাজপথ ও সংসদ উভয় জায়গায় আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, জুলাই জাদুঘরের ইতিহাস বিকৃত করার কোনো ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস নিয়ে কোনো ধরনের চক্রান্ত মেনে নেয়া হবে না।

সভায় আরো বক্তব্য দেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদেক কায়েম। তিনি জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের আহবান জানিয়ে বলেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশ কোনোভাবেই লুটেরাদের হাতে তুলে দেয়া যাবে না। বক্তারা শহীদদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, জুলাই জাদুঘর দ্রুত চালু এবং আহত যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এবং সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অনুষ্ঠানে শহীদ মোবারক হোসেনের বাবা রমজান আলী, শহীদ মেহেদী হাসানের বাবা শেখ জামাল হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মনজুরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য আবদুস সুবুর ফকির, অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান (বীর প্রতীক), মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।