ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদারে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিচ্ছে : দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী

টেকটোনিক প্লেটসংক্রান্ত ঝুঁকি সম্পর্কে সরকার অবগত রয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি দেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ফল্ট লাইনের আশপাশের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংসদে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো: ইকবাল হোসেন
সংসদে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো: ইকবাল হোসেন |বাসস

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো: ইকবাল হোসেন বলেছেন, ভূমিকম্পের মতো বৃহৎ দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে অনুসন্ধান, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩ এর সরকারি দলের সদস্য রাশেদা বেগম হীরার জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ‘ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগকালীন অনুসন্ধান, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং জরুরি যোগাযোগের জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের আওতায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি), বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্পৃক্ত ১০টি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (ইউএসএআর) সরঞ্জাম, ভারী উদ্ধার যন্ত্রপাতি, জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিশেষায়িত উদ্ধার উপকরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা মহানগরী ও এর আশপাশের জেলার জন্য এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৩ হাজার ২৩৭ জন স্বেচ্ছাসেবী এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ২১ হাজার ৬০০ জন সদস্যসহ মোট ৬৪ হাজার ৮৩৭ জনের তথ্যভান্ডার (ডেটাবেস) প্রস্তুত করা হয়েছে।

মো: ইকবাল হোসেন বলেন, নিয়মিত মহড়া, প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি আরো বলেন, বিল্ডিং কোড না মেনে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন শনাক্ত ও পরিত্যক্ত ঘোষণা, রাস্তা দখল করে নির্মিত বাউন্ডারি ওয়াল, দোকান ও স্থাপনা অপসারণ করে সড়ক প্রশস্তকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি হাসপাতাল নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে সরকারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পরে সম্পূরক প্রশ্নে রাশেদা বেগম হীরা বলেন, সরকারের গৃহীত অধিকাংশ পদক্ষেপ ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলাকেন্দ্রিক হলেও ভূমিকম্প-পূর্ব দীর্ঘমেয়াদি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণেও গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ভারতীয়, ইউরেশিয়ান ও বার্মা এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান হওয়ায় দেশটি তুলনামূলক বেশি ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালে ৬২টি এবং ২০২৪ সালে ৫৪টি ছোট মাত্রার ভূমিকম্প ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

রাজধানীর সবুজবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, কাকরাইল, ইব্রাহিমপুর, পল্লবী, খিলগাঁও, কল্যাণপুর, গাবতলী, শ্যামপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, সূত্রাপুর ও মানিকদীসহ কয়েকটি এলাকা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাজধানীকে ধীরে ধীরে বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টেকটোনিক প্লেটসংক্রান্ত ঝুঁকি সম্পর্কে সরকার অবগত রয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি দেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ফল্ট লাইনের আশপাশের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ চলছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম আরো কার্যকর করে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সব উদ্যোগ এখনো সম্পন্ন না হলেও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সূত্র : বাসস