কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার, মূলহোতা গ্রেফতার

২০২৫ সালের আগস্টে ভুক্তভোগীকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হলে সেখানে পৌঁছানোর পর চক্রের সদস্যরা তার পাসপোর্ট ও অর্থ নিয়ে নেয়। পরে তাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করে অনিচ্ছাকৃত কাজ করানো হয় এবং তার উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংগৃহীত

কম্বোডিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে পাচার, অর্থ আত্মসাৎ এবং নির্যাতনের অভিযোগে একটি মানবপাচার চক্রের মূলহোতা মো: রুবেলকে (২৯) গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) ইউনিট গত মঙ্গলবার ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

অভিযুক্ত মো: রুবেল রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার খাগজানা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, আর্থিক সঙ্কটে থাকা এক নারীর সাথে স্থানীয় একটি এনজিওতে কর্মরত অবস্থায় রুবেলের পরিচয় হয়। পরে তিনি ওই নারীকে কম্বোডিয়ায় কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেন।

অভিযোগে বলা হয়, ভুক্তভোগীর আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় অভিযুক্ত তাকে এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিতে সহায়তা করেন। পরে সেই টাকা এবং ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দেন। পরে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন সময়ে আরো অর্থ নেন। সব মিলিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে চার লাখ টাকা নেয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সালের আগস্টে ভুক্তভোগীকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হলে সেখানে পৌঁছানোর পর চক্রের সদস্যরা তার পাসপোর্ট ও অর্থ নিয়ে নেয়। পরে তাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করে অনিচ্ছাকৃত কাজ করানো হয় এবং তার উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

এছাড়া তাকে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। দেশে ফিরতে চাইলে প্রাণনাশ এবং অন্য দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়ার হুমকিও দেয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও মানবিক সংস্থার সহায়তায় গত ১ জুলাই দেশে ফেরেন ওই নারী। দেশে ফিরে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেন।

সিআইডি জানায়, তদন্তে পাওয়া তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে হস্তান্তর করা হলে আদালতের আদেশে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।

বর্তমানে মামলার অন্যান্য অভিযুক্ত, মানবপাচার নেটওয়ার্ক, আর্থিক লেনদেন, বিদেশে অবস্থানরত সম্ভাব্য ভুক্তভোগী এবং দেশী-বিদেশী সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) ইউনিট। সংঘবদ্ধ আন্তঃদেশীয় মানবপাচারের এই চক্রের মাধ্যমে আরো কোনো বাংলাদেশী নাগরিক একইভাবে পাচার বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট দেশী-বিদেশী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সিআইডি বিদেশে কর্মসংস্থান বা অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দেয়া উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে না পড়ে যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যেতে দেশের নাগরিকদের প্রতি আহবান জানাচ্ছে। বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, মানবপাচার, জিম্মি বা নির্যাতনের কোনো তথ্য জানা থাকলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়।