অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা, অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবেলা করে অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, ‘সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন ব্যয় সঙ্কোচন এবং প্রশাসনিক ব্যয়ে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একইসাথে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের কার্যক্রমও এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।’
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয় করতে হলেও সরকার সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী প্রদানের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরো শক্তিশালী করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির কিছু সমন্বয় করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারি নিট ব্যয় ধরা হয়েছিল সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে সরকারি ব্যয়, বিশেষ করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি কিছুটা মন্থর হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে ব্যয় দুই হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সাত লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, সংশোধিত বাজেটে বাজেট ঘাটতি প্রস্তাব করা হয়েছে দুই লাখ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তিন দশমিক তিন শতাংশের সমান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সংশোধিত বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পরিমাণ ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কমানো হয়েছে।
সম্পূরক বাজেটের ওপর অনুষ্ঠিত আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রাণবন্ত ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, যা সরকারের নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।
সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী স্পিকারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের সকল সদস্যের প্রতি সম্পূরক আর্থিক বিবৃতিতে বর্ণিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয় বাবদ দাবিকৃত মঞ্জুরি অনুমোদনের আহ্বান জানান। বাসস


