শহীদ মীর মুগ্ধসহ জুলাই শহীদদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে দেশ ও জাতি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহাগনরী উত্তরের আমির ও ডিএনসিসিতে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীতে জুলাই শহীদ দিবসে জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও শহীদ রেদোয়ানের আহমেদ শরীফ জয়-এর কবর জিয়ারতের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সেলিম উদ্দিন বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দীর্ঘ পরিসরে দেশ ও জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল। দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের অপশাসনে-দুঃশসনে দেশকে পরিণত করা হয়েছিল রীতিমতো বধ্যভূমিতে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবেলা ব্যর্থ হয়ে বিরোধী দলের ওপর চালানো হয়েছিল নির্মম ও নিষ্ঠুর নির্যাতন। এখানেই শেষ নয় বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই জনপ্রিয় জাতীয় নেতাদের কথিত বিচারের নামে প্রহসন করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। বস্তুত ফ্যাসিবাদী সরকার পুরো দেশকেই দুর্বৃত্তদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল। কিন্তু জুলাই বিপ্লবীরা জাতিকে সে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে জাতিকে মুক্তি দিয়েছে। কিন্তু এজন্য ঝড়ে গেছে প্রায় ২ হাজার তরতাজা প্রাণ। তিনি জুলাই শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের স্বজদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের স্বপ্ন ছিল সকল ক্ষেত্রে ইনসাফসহ দেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করা। কিন্তু শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি করে সরকার জুলাই চেতনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে নানাবিধ টালবাহানা শুরু করেছে। তারা সংবিধান সংশোধন নিয়ে একটি কমিটি গঠন করলেও জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারকে পুরোপুরি অবজ্ঞা করে চলেছে, যা তাদের জন্যই হবে আত্মঘাতি। তিনি শহীদের রক্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে অবিলম্বে জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় সরকারকে এর পরিণাম ভোগ করতে হবে।
কবর জিয়ারতের সময় মহানগরী আমিরের সাথে ছিলেন শহীদ মীর মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, উত্তরা পশ্চিম থানা জামায়াতের আমির মাজহারুল ইসলাম, তুরাগ মধ্য থানা আমির গাজী মনির হোসাইন, নায়েবে আমির কামরুল হাসান, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল প্রার্থী অ্যাডভোকেট সুরুজ্জামান ও শহীদ মুগ্ধের বন্ধু আশিকুর রহমান নাঈম প্রমুখ।



