ঢাকার উন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে কিছুই হয় না : মির্জা ফখরুল

শুধু নাগরিকদের সচেতন করলেই কি হবে? যারা পলিসি তৈরি করছেন, ঢাকা শহরকে শাসন করছেন, যারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছেন, প্রজেক্ট তৈরি করছেন, প্রজেক্টের পর প্রজেক্ট, হাজার হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট হচ্ছে এই ঢাকা নগরের জন্য। কিন্তু মানুষ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, নাগরিকরা কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, সে বিষয়গুলো নির্ণয় করা দরকার এবং সেই বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া দরকার।

অনলাইন প্রতিবেদক
সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর |নয়া দিগন্ত

ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৬৬ সাল থেকে কলেজে পড়াশোনা করতে এসেছি। তখন যে ঢাকা শহর ছিল, সেই ঢাকা শহর আর এখনকার ঢাকা শহর এক নয়। মানুষ বেড়েছে, নতুন আবাসন বেড়েছে, সবকিছু বাড়বে। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে কিছু হয় না। ড্রেনেজ নেই বললেই চলে। ড্রেন তৈরি করা হয় হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে। কিন্তু সেই ড্রেনে পানি নির্গমন হয় না। এগুলো প্রবলেম।

আজ শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘দক্ষিণের জানালা উদ্বোধন এবং নাগরিক ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আসলে শুধু নাগরিকদের সচেতন করলেই কি হবে? যারা পলিসি তৈরি করছেন, ঢাকা শহরকে শাসন করছেন, যারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছেন, প্রজেক্ট তৈরি করছেন, প্রজেক্টের পর প্রজেক্ট, হাজার হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট হচ্ছে এই ঢাকা নগরের জন্য। কিন্তু মানুষ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, নাগরিকরা কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, সে বিষয়গুলো নির্ণয় করা দরকার এবং সেই বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া দরকার।

ঢাকার বসবাসের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, আসলে ঢাকা মহানগর তো আমাদের সবারই, এটা আসলে আমাদের বাস করার জায়গা। কিন্তু আজকাল আমার নিজেরই মনে হয় যে আমি ঢাকা শহরে থাকব না। আমি আমার দেশের যে শহর, সেই শহরে গিয়ে থাকব। কারণটা হচ্ছে যে এটাকে বাসযোগ্য মনে হয় না। আপনার ঘর থেকে বের হলেই যে নিঃশ্বাস নেয়া, অক্সিজেনটা যেটা আসে, সেটা পলিউটেড। হাসপাতালে যাবেন- সেখানে হাসপাতালের মধ্যে যদি পাবলিক হসপিটাল হয়, সেখানে ঢোকাই যাবে না। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান এখানে ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। সেই বিষয় থেকে যদি আমরা বের হতে না পারি, সেই প্রতিষ্ঠানকে যদি সামনের দিকে আনতে না পারি, অনেকে যে স্বপনের কথা বলেন, স্বপ্নই মনে হয় এগুলো থেকে যাবে। কারণ আমরা আসলে কি আর সেই মুক্ত বাতাস নিতে পারব?

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, যখন ঢাকা কলেজে পড়তাম, তখন আমরা প্রায়ই আসতাম বুড়িগঙ্গাতে নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়াতে। এখন সেই বুড়িগঙ্গার কাছেও যাওয়া যায় না। এত পলিউটেড, এত দুর্গন্ধ! এবং আমার কাছে মনে হয় যে, ঢাকা শহরের সব রোগগুলোর মূলে বোধহয় এই বুড়িগঙ্গার পানি। কারণ আগে একই অবস্থা ছিল, শীতলক্ষ্যাতেও প্রায় একই অবস্থা শুরু হয়েছে। তাহলে ঢাকা শহরের নাগরিকরা যাবেন কোথায়?

দক্ষিণ সিটির উদ্যোগ গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই উদ্যোগের সাথে কিন্তু কাঠামোগত পরিবর্তনগুলোকে আরো পরিকল্পনামাফিক হতে হবে, পরিকল্পনা সঠিক নিতে হবে। কিছু কিছু পানি আছে, একটা বিরাট অংশ সেটা সেবনযোগ্য নয়। আরেকটা হচ্ছে যে পানির যে লেভেল, সেটা হাজার মিটার নিচে চলে গেছে; যেটা ঢাকার জন্য একটা ভয়াবহ বিপদ নিয়ে আসছে। যেকোনো দিন যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, অর্থাৎ ভূমিকম্পের মতো বিষয় ঘটে, ঢাকা শহর তলিয়ে যাবে। তাহলে আমাদের সেই ব্যবস্থাগুলো তো করতে হবে। ঢাকা শহরে আমাদের নদীগুলোকে তো বিশুদ্ধ করার চেষ্টা করতে হবে। অথচ এত প্রজেক্ট হয়, এই বুড়িগঙ্গাকে পলিউশন মুক্ত করার কোনো প্রজেক্ট তৈরি হয় না।

পরামর্শ চেয়ে তিনি বলেন, আমাদের পরামর্শগুলো দেবেন, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি; যে ব্যবস্থাগুলো নিলে সত্যিকার অর্থেই ঢাকা শহরে একজন নাগরিক হিসেবে প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নেয়া যাবে। ‘দক্ষিণের দুয়ার খোলা’- এ কথা সবসময় বলা যাবে, শুধু আজই দক্ষিণের দুয়ার খুলব তা নয়। দক্ষিণের জানালা যেন আমি সবসময় খুলতে পারি, সে ব্যবস্থা আমাকে করতে হবে।