সংসদে খাদ্যমন্ত্রী

দেশে বছরে ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হয়

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো: আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

সংসদ প্রতিবেদক
খাদ্যমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী
খাদ্যমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী |ফাইল ছবি

বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী। জাতিসঙ্ঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউনেপের (ইউএনইপি) ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স প্রতিবেদন তুলে ধরে তিনি সংসদকে জানান, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নতুন সাইলো নির্মাণ এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার ফলে গত অর্থবছরে সরকারি খাদ্যশস্য অপচয়ের হার কমে শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো: আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

সংসদ সদস্য আবুল কালাম মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, দেশে উৎপাদিত খাদ্যের একটি বড় অংশ অপচয় হওয়া রোধে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে খাদ্য মন্ত্রণালয় কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনেপের প্রতিবেদনে উল্লেখিত ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয়ের পরিমাণ দেশের সামগ্রিক খাদ্য অপচয়ের চিত্র তুলে ধরে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য খাদ্যশস্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এ প্রক্রিয়ায় কিছু খাদ্যশস্য নষ্ট বা অপচয় হলেও আধুনিক সাইলো ও গুদাম নির্মাণ, সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে অপচয়ের হার ধীরে ধীরে কমে আসছে।

সংসদে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় খাদ্যশস্যের মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ মেট্রিক টন, যা মোট খাদ্যশস্যের মাত্র শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন বা শূন্য দশমিক ৩১৬ শতাংশ।

মন্ত্রী বলেন, পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের ঘাটতি ও অপচয় আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। আধুনিক সংরক্ষণ অবকাঠামো এবং উন্নত ব্যবস্থাপনার কারণে এই ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্যের অপচয় রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদিত খাদ্যপণ্যের অপচয় ও ক্ষতি কমাতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও কার্যকর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারি উদ্যোগ, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে খাদ্য অপচয়ের হার আরো কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।