চীনাদের সহযোগিতায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু

৩২৫ জনকে কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং ৬৭৫ জনকে সফট স্কিল প্রশিক্ষণ দেয়া হবে

‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও জীবিকাভিত্তিক প্রশিক্ষণ তাদের আত্মনির্ভরতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা ভবিষ্যতে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
চায়না দূতাবাসের সহযোগিতায় ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভের উদ্যোগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে
চায়না দূতাবাসের সহযোগিতায় ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভের উদ্যোগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে |নয়া দিগন্ত

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকাস্থ চায়না দূতাবাসের সহযোগিতায় ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভের উদ্যোগে কক্সবাজারের উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাল্টিপারপাস বিল্ডিংয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘সাসটেইনেবল অপরচুনিটিজ ফর লাইভলিহুডস, অ্যাডভান্সমেন্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স (সোলার)’ শীর্ষক এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প-ইন-চার্জ ও উপসচিব মো: শরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: এনায়েত হোসেন।

সোলার কার্যক্রমের আওতায় ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৩২৫ জন আগ্রহী প্রশিক্ষণার্থীকে বিভিন্ন কারিগরি ও পেশাভিত্তিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, ব্লক-বাটিক, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, গ্যাস বার্নার রিপেয়ারিং এবং ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার।

পাশাপাশি, ৬৭৫ জনকে সফট স্কিল প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, সমস্যা সমাধান, কর্মক্ষেত্রের আচরণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জীবন ও কর্মদক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও জীবিকাভিত্তিক প্রশিক্ষণ তাদের আত্মনির্ভরতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা ভবিষ্যতে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রধান অতিথি মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ জীবিকার জন্য তাদের প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের বাস্তবমুখী উদ্যোগ তাদের আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।’

ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: এনায়েত হোসেন বলেন, ‘চায়না দূতাবাসের সহযোগিতায় ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বাস্তবমুখী দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে কাজ করছে। সোলার কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের এমন কিছু দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেয়া হচ্ছে, যা তাদের আত্মনির্ভরতা, জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।’

ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভের উদ্যোগে এবং চায়না দূতাবাসের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত সোলার কার্যক্রমের মাধ্যমে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দক্ষতা, জীবিকা ও সহনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের আরো আত্মনির্ভর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।