প্রধান নির্বাচন কমিশনার

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : প্রথম ধাপে ৩৭১ ইউপিতে ভোটগ্রহণ

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, ‘২০২১ সালের জুনে ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়েছে, আইনিভাবে সেগুলোর নির্বাচন আগে দিতে হবে।’

বিশেষ সংবাদদাতা

Location :

Dhaka City
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন |নয়া দিগন্ত

‘চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রথম ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা। সেজন্য আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই ভোটের তফসিল’ দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন।

তিনি বলেছেন, ‘২০২১ সালের জুনে ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়েছে, আইনিভাবে সেগুলোর নির্বাচন আগে দিতে হবে।’ আর রাষ্ট্রপতিও সার্বিক সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

তিনি আরো জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোটের ব্যবস্থা রাখা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজের দফতরে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান সিইসি নাসির উদ্দীন।

সকালে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এই ব্রিফিং করেন।

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আগামী বার্ষিক পরীক্ষা নভেম্বরে অনুষ্ঠানের অনুরোধ করবে ইসি; যাতে ডিসেম্বরে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিকূল আবহাওয়া এড়িয়ে এবং ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে শীতকালীন ড্রাই সিজনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর বিশেষ জোর দেয়া হচ্ছে ‘

তিনি আরো বলেন, ‘তফসিল ঘোষণা করলেই যে সব নির্বাচন চলতি বছরের মধ্যে শেষ হবে, তা নয়। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী এ বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে হবে। ভোটের একটি অংশ বছরের শেষ দিকে এবং প্রয়োজনে কিছু নির্বাচন পরবর্তী বছরের শুরুতেও গড়াতে পারে। কারণ দুর্গাপূজা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, আবহাওয়া, রমজানসহ বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময় নির্ধারণ করতে হবে।’

সিইসি বলেন, ‘জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন করতেও সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত ইসি। এই উপনির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটেও ভোট হবে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আগামী অক্টোবরে উপনির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।’

তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে খুব শিগগিরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বসবে ইসি। এ জন্য নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

প্রথম অগ্রাধিকার ২০২১ সালের ৩৭১ ইউপি নির্বাচন

সিইসি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপে কোন এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে, এ বিষয়ে কমিশনের একটি স্পষ্ট আইনি হিসাব রয়েছে। আগের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ছয়টি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২০২১ সালের ১০ জুন ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মেয়াদ ও আইনগত প্রয়োজনীয়তার বিবেচনায় এসব ইউনিয়ন পরিষদকে প্রথম দিকের নির্বাচনের তালিকায় রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এসব ইউনিয়ন পরিষদ একই ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত নয়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা এসব ইউপির নির্বাচন আলাদা আলাদা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আয়োজন করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বর্ষাকালে যোগাযোগব্যবস্থা ও ভোটকেন্দ্রে যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হতে পারে, সেগুলোকে তুলনামূলক অনুকূল মৌসুমে ভোটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।’

সিইসির ভাষায়, ‘ভোটারদের সুবিধাই নির্বাচনের সময় নির্ধারণের অন্যতম প্রধান বিবেচনা হওয়া উচিত। এ কারণে শুষ্ক মৌসুমকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বেশি উপযোগী হিসেবে দেখা হচ্ছে।’

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনেও ৯০ দিনের হিসাব

সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে সংবিধান নির্ধারিত ৯০ দিনের সময়সীমা রয়েছে। ফলে উপনির্বাচনটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতেই হবে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনের সময় ওই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হলে একই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক জনবল ও নির্বাচন পরিচালনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তাই কমিশন কোনো নির্বাচন যাতে আরেকটির সাথে সাংঘর্ষিক না হয়, সেই হিসাবেই এগোতে চাইছে।’

ভোটের সময় নির্ধারণে যত বাধা

সিইসি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কমিশনের সামনে শুধু প্রশাসনিক প্রস্তুতিই নয়, রয়েছে একাধিক বাস্তব সমস্যা। এর মধ্যে অন্যতম দুর্গাপূজা। দেশের বিভিন্ন এলাকায় শত শত পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করতে হয়। একই সময়ে নির্বাচন আয়োজন করলে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হতে পারে।’

তিনি জানান, এরপর রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক স্কুল-কলেজ ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একই সাথে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ভোট গ্রহণের দায়িত্বেও নিয়োগ দেয়া হয়। ফলে পরীক্ষা ও নির্বাচন একই সময়ে পড়লে উভয় কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এ কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে পরীক্ষার সময়সূচি কিছুটা সমন্বয়ের চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছে কমিশন।’

সিইসি জানান, ‘এর সাথে রয়েছে আবহাওয়ার বিষয়টিও। বর্ষাকালে দেশের অনেক এলাকায় সড়ক ও নৌযোগাযোগে সমস্যা হয়। বিশেষ করে দুর্গম ইউনিয়নগুলোতে ভোটার ও নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে কমিশন অনুকূল আবহাওয়ার সময়কে অগ্রাধিকার দিতে চায়।’

রমজানও বড় বাস্তবতা

এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু করা হলেও সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার জন্য সময় খুবই সীমিত বলে মনে করছে কমিশন। কারণ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির দিকে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রমজানের আগে যদি নির্বাচন শেষ করা সম্ভব না হয়, তাহলে পরবর্তী সময়ে ঈদ, গরম ও বর্ষাকালসহ একের পর এক বাস্তব সমস্যা সামনে আসবে। ফলে নির্বাচন কমিশনের হাতে কার্যত একটি খুব সংকুচিত সময়সীমা রয়েছে। এই কারণেই কমিশন সেপ্টেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছে।’