পাটমন্ত্রী

পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার

‘পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংসদে কথা বলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
সংসদে কথা বলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির |ফাইল ছবি

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি দেশী ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, ‘পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে খেলাফত মজলিসের সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসানের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম মোড়কের কারণে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ রোধে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ বাস্তবায়নে সরকার নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পাট খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার পাট আইন, ২০১৭, জাতীয় পাটনীতি, ২০১৮ এবং চারকোল নীতি, ২০২২ প্রণয়ন করেছে। এছাড়া, পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে রফতানিকারকদের নগদ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার পিএলসি (জেডিপিসি)-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, শিল্পের জন্য উন্নতমানের পাট আঁশ উৎপাদন বাড়াতে সরকার ‘উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

তিনি আরো বলেন, পাটপণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে ‘জুট প্রোডাক্ট কর্নার’ স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, পাট অধিদফতর এবং জেডিপিসি যৌথভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাটপণ্যের মেলার আয়োজন করছে, যাতে দেশী-বিদেশী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে চলমান একটি প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ বিতরণের পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল প্রসঙ্গে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে ২০২০ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সরকারি সিদ্ধান্তে ২০২০ সালে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন ২৫টি পাটকল বন্ধ করা হয়। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ১৪টি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেয়া হয়েছে। ইজারা দেয়া মিলগুলোর মধ্যে নয়টি ইতোমধ্যে উৎপাদনে ফিরেছে এবং অবশিষ্ট মিলগুলো পর্যায়ক্রমে ইজারা দেয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাসস