সফল বাজেটের জন্য সমান বণ্টন নিয়ে সংসদে আলোচনা

সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে বাজেট বরাদ্দ ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সমভাবে বিতরণ করা হয়, শুধুমাত্র মন্ত্রীদের নির্বাচনী এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার না দিয়ে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংসদ অধিবেশন
সংসদ অধিবেশন |ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের সাধারণ আলোচনায় সংসদ সদস্যরা বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে সকল এমপির জন্য সমান বণ্টনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তাদের মতে, সকল সংসদ সদস্যের অধিকার সমান হওয়ায় বাজেটও সমানভাবে বণ্টন করা উচিত।

রোববার (২১ জুন) এ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা বলেন, সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে বাজেট বরাদ্দ ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সমভাবে বিতরণ করা হয়, শুধুমাত্র মন্ত্রীদের নির্বাচনী এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার না দিয়ে।

নরসিংদী-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘সকল সংসদ সদস্যের অধিকার সমান। তাই বাজেট বরাদ্দ সব আসনে সমানভাবে বণ্টন করা উচিত, শুধু মন্ত্রীদের আসনে নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘অতীতে দেখা গেছে বাজেট ঘোষণা করা হলেও বরাদ্দ মূলত মন্ত্রীদের আসনেই গেছে, অন্য সংসদ সদস্যরা কিছুই পাননি।’

তিনি দাবি করেন, সরকারের উচিত সমান বণ্টন নিশ্চিত করা, কারণ সব সংসদ সদস্যের অধিকার সমান।

তিনি পূর্ববর্তী বিএনপি শাসনামলের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘নরসিংদী-৩ আসনে তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর এলাকায় প্রায় ৯৯ শতাংশ কাঁচা রাস্তা পাকা করা হয়েছিল, কিন্তু তার নিজের আসনে এবং পাশের আসনে অন্তত ৬০ শতাংশ কাঁচা রাস্তা তখনো পাকা হয়নি।’

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সব বরাদ্দই মন্ত্রীদের আসনে যায়, তাহলে ৩০০টি আসনের সংসদ কেন আছে? এ কারণেই সমান বণ্টনের ওপর জোর দেয়া দরকার।

বাজেট নিয়ে আলোচনায় নারী আসন-৮ এর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটের মূল দর্শন একটি দ্রুত উন্নয়নশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’

হবিগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান বলেন, ‘এই বাজেট একটি কল্যাণরাষ্ট্রের দিকে অগ্রযাত্রার লক্ষ্যে প্রণীত।’

যশোর-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেন, ‘দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বাজেট বাস্তবায়ন আরো সহজ হবে।’

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিগত আয়কর সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদ বলেন, ‘আগের ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার সীমা থেকে মাত্র ২৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে, যা নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।’

বাজেটকে সর্বোচ্চ ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট উল্লেখ করে নড়াইল-২ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য এম আতাউর রহমান বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় অবাস্তব।’

রংপুর অঞ্চলের বরাদ্দ নিয়ে সমালোচনা করে গাইবান্ধা-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো: মাজেদুর রহমান বলেন, ‘বাজেটে সমান বণ্টনের কথা বলা হলেও উত্তরাঞ্চলের জন্য বরাদ্দ মাত্র ১ শতাংশ।’

খুলনা-২ আসনের আরেক বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল বলেন, ‘আয় নিশ্চিত না করেই ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোসা: তাহসিনা রুশদীর ফ্যাসিস্ট শাসনামলে জোরপূর্বক গুম হওয়া পরিবারের জন্য ভাতা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘মতপার্থক্য থাকলেও সাম্প্রতিক বাজেটটি জনবান্ধব, যার লক্ষ্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আয় বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি।’

পিরোজপুর-১ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা বেশি বরাদ্দ পাচ্ছেন, বিরোধী এমপিরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

সরকারি ও বিরোধী দলের আরো বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নেন।

সূত্র : বাসস