হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের অসম্পন্ন কাজ শেষ করে এটি চালু করতে ৯০২ কোটি টাকা লাগবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
রোববার জাতীয় সংসদে নোয়াখালী-৬ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, আগের সরকার তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে বলে উপস্থাপন করলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ, বিশেষ করে যন্ত্রপাতি সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারপোর্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (এডিসি) কাজ অসম্পন্ন ছিল।
তিনি বলেন, প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও কয়েক দফা সংশোধনের পর তা বেড়ে ২১ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকারে এসে দেখতে পাই, ২১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনটি উদ্বোধন করা হলেও প্রয়োজনীয় সমন্বিত সুবিধাগুলোর কাজ সম্পন্ন হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘যন্ত্রপাতি এসে পৌঁছেছিল, কিন্তু সেগুলোর কোনো ইন্টিগ্রেশন করা হয়নি। এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য এডিসি কাজও সম্পন্ন করা হয়নি।’
তৃতীয় টার্মিনালকে প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকলে দেশের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। তাই দ্রুত এটি চালু করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বকেয়া অর্থ পরিশোধ এবং টার্মিনালটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ৯০২ কোটি টাকার প্রয়োজন নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বকেয়া পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে তৃতীয় টার্মিনালটি চালু করতে ৯০২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে- আমরা সঠিক ও স্বচ্ছভাবে এই হিসাব করেছি।
মন্ত্রী জানান, এ অর্থের অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ব্যবস্থা নিতে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীসেবা সক্ষমতা ও আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানে বিমানবন্দরে বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেয়া সম্ভব। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে এর দ্বিগুণ যাত্রীকে সেবা দেয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল থেকে বাড়তি যে রাজস্ব আয় হবে, তা প্রকল্পের জন্য নেয়া ঋণ পরিশোধে সহায়ক হবে।
মন্ত্রী জানান, সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ইতোমধ্যে ঋণের কিস্তি হিসেবে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যত দ্রুত টার্মিনালটি চালু করতে পারব, তত দ্রুত রাজস্ব আয় হবে এবং তত দ্রুত ঋণ পরিশোধ করতে পারব।’
তৃতীয় টার্মিনালের অসম্পন্ন কাজ শেষ করে দ্রুত চালু করা না হলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি অব্যবহৃত স্থাপনা দেশের জন্য বোঝা হয়ে থাকবে বলেও সতর্ক করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের সময়ে যেমন এটি শুধু একটি ভবন হয়ে ছিল, আমরা তা চাই না। এটি জাতি, জনগণ ও দেশের জন্য ক্ষতিকর।’ সূত্র : বাসস



