পুলিশ এসোসিয়েশনের বিবৃতি

পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যে পেশাদারিত্ব-সংযম থাকা বাঞ্ছনীয়

ভবিষ্যতে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যগণ বক্তব্য প্রদানকালে আরো সতর্কতা, সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন, যাতে পুলিশ বাহিনীর মর্যাদা, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদার ভাবমূর্তি আরো সুদৃঢ় হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ বাহিনীর সকল সদস্য ও কর্মকর্তার বক্তব্যে পেশাদারিত্ব, সংযম এবং প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করে বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন। সংস্থাটির মতে, পুলিশ সদস্যদের জনসম্মুখে দেয়া যেকোনো বক্তব্য এমন হওয়া উচিত, যা বাহিনীর মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থাকে আরো সুদৃঢ় করে।

সম্প্রতি খুলনায় এক পুলিশ কর্মকর্তার দেয়া বক্তব্যের পর শনিবার সংগঠনের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।

সংগঠনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ডাবলু স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত ১৭ জুন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক সুধী সমাবেশে জণগণের কাছ থেকে ক্রিমিনালদের বিষয়ে তথ্য চাওয়ার গোপনীয়তা রক্ষার প্রতিশ্রুতিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান একপর্যায়ে বলেন, ‘কোনো ইনফরমেশন ইন্সপেক্টরকে বলার পর যদি ফাঁস হয়, তবে মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি, আমি নিজে ওই ইন্সপেক্টরকে এই গাছের সাথে ঝুলিয়ে দেব, আপনারা নিজে পিটাইয়া মারবেন।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে নানামুখী প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়। অনেক সদস্য বিষয়টিকে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করে তাদের উদ্বেগ ও মতামত প্রকাশ করেন।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার বিষয় থাকলে তা প্রচলিত আইন, বিভাগীয় বিধি-বিধান ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। এ ধরনের বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াই সর্বোত্তম ও গ্রহণযোগ্য পন্থা।

ভবিষ্যতে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যগণ বক্তব্য প্রদানকালে আরো সতর্কতা, সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন, যাতে পুলিশ বাহিনীর মর্যাদা, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদার ভাবমূর্তি আরো সুদৃঢ় হয়।