প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত এলাকায় সরকারি আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত

বর্তমানে মজুত রয়েছে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ, ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ১ হাজার ৭৭ বান্ডিল ঢেউটিন, গৃহনির্মাণ মঞ্জুরি বাবদ ৩০ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য চার লাখ টাকা, গো-খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা এবং ৫ হাজার ৮০০টি কম্বল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

দেশের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা, ভূমি ও পাহাড়ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় সরকারের আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলায় মোট ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ২৪৫টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সবাই আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে গেছে।

এ ছাড়াও নিহত ১৩ জনের প্রত্যেকের পরিবারে ২৫ হাজার টাকা করে সরকারি সহায়তা দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলায় ত্রাণ হিসেবে ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল, ৯৫ লাখ টাকা নগদ, শিশু খাদ্যের জন্য চার লাখ টাকা এবং গো-খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহনির্মাণ মঞ্জুরি হিসেবে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর বিপরীতে ১ হাজার ১৯৫ মেট্রিক টন চাল, ৮৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নগদ, শিশুখাদ্যের জন্য চার লাখ টাকা, ৪৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং গো-খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ৩০৫ মেট্রিক টন চাল, ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা নগদ এবং ১ হাজার ৪৫ বান্ডিল ঢেউটিন মজুদ রয়েছে। সাথে গৃহনির্মাণ মঞ্জুরির ৩০ লাখ টাকা বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

হবিগঞ্জ সদরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যার্তদের জন্য দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং নয়টি উপজেলায় ৮৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বন্যার্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত দুই লাখ টাকা নগদ, ৩৫ মেট্রিক টন চাল এবং ১ হাজার ৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

দুর্যোগকালীন সময়ের জন্য আট লাখ টাকা নগদ, ১৭০ মেট্রিক টন চাল, ১১০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ২০০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহনির্মাণ মঞ্জুরি হিসেবে ছয় লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। সেই সাথে জেলা ও উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা তথ্য অফিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলায় ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ত্রাণ সহায়তা হিসেবে ৪০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৫ লাখ টাকা নগদ, ৫৪৬ বান্ডিল ঢেউটিন, গৃহনির্মাণ মঞ্জুরি বাবদ ১৫ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা এবং গো-খাদ্যের জন্য পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে ১০০ মেট্রিক টন চাল, ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ, ৫৪৬ বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহমঞ্জুরি বাবদ ১৫ লাখ টাকা। বিতরণ করা হয়েছে ৩০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৩০ লাখ ৫০ হাজার নগদ টাকা।

কক্সবাজার জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা নগদ এবং ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী সরকারি উদ্যোগে বন্যার্তদের সরবরাহ করা হচ্ছে। দুর্যোগ পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য জেলা ও উপজেলায় কন্ট্রোলরুম চালু রয়েছে।

বর্তমানে মজুত রয়েছে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ, ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ১ হাজার ৭৭ বান্ডিল ঢেউটিন, গৃহনির্মাণ মঞ্জুরি বাবদ ৩০ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য চার লাখ টাকা, গো-খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা এবং ৫ হাজার ৮০০টি কম্বল।

মৌলভীবাজার জেলা তথ্য অফিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫০ জন মানুষ ও ৮০টি গবাদিপশু আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ হিসেবে সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ, ১৪০ মেট্রিক টন চাল এবং ১ হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যাকবলিত অসহায় মানুষ এবং পাঁচটি অন্ধ পরিবারের ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর মধ্যে ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এ মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন পোশাকও দেয়া হয়েছে।

বর্তমানে মজুত রয়েছে সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ, ৬০ মেট্রিক টন চাল, ৫০০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহনির্মাণ মঞ্জুরি বাবদ ১৫ লাখ টাকা।

সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী রাঙামাটি জেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সেখানে ২৯৫ মেট্রিক টন চাল ও ২০ লাখ টাকা নগদ ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে ২০৫ মেট্রিক টন চাল ও ২৫ লাখ টাকা।

বান্দরবান জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আশ্রয়কেন্দ্র থেকে লোকজন নিজ নিজ বাসাবাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। ত্রাণ কার্যক্রমে ২০ লাখ টাকা নগদ এবং ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের মধ্যে ২৪৪ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮ হাজার ৫৬০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ৫০০ বান্ডিল ঢেউটিন বরাদ্দ রয়েছে। জেলায় মজুদ রয়েছে গৃহনির্মাণ মঞ্জুরি বাবদ ১৫ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা এবং গো-খাদ্যের জন্য পাঁচ লাখ টাকা।

লামা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্যোগের সময় তিন উপজেলায় মোট ১২২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল। ১৫ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮৫০ জনকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। ১৮ জুলাই পর্যন্ত ৮৮ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন চাল, ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ এবং ৬ হাজার ৪৫৩ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

রামগড় তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৫৭০টি পরিবারের মধ্যে প্রতিটি পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ছাড়াও ১২৯ প্যাকেট শুকনো খাবার, পাঁচ বান্ডিল ঢেউটিন এবং এক লাখ ৪২ হাজার ৫৫ টাকা নগদ বিতরণ করা হয়েছে। সূত্র : বাসস