সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ

বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে। লুটপাটের অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহারের বিষয়টি সরকার গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ |ইন্টারনেট

দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে। লুটপাটের অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার এবং অন্য অংশ মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহারের বিষয়টি সরকার গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছে।

এ পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ে জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের তদারকি ও সমন্বয়ের এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী, ইকবাল হাসান মাহমুদ রাজশাহী ও নাটোর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। ডা: আবু জাফর মো: জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড় এবং আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নিতাই রায় চৌধুরী চুয়াডাঙ্গা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির হবিগঞ্জ এবং আরিফুল হক চৌধুরী মৌলভীবাজার জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।

মো: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রাম জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা এবং আসাদুল হাবিব দুলু ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। মো: আসাদুজ্জামান খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট এবং জাকারিয়া তাহের ফেনী ও নোয়াখালী জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।

সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ এবং সাচিং প্রুকে কক্সবাজার জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মো: শরিফুল আলম টাঙ্গাইল ও নরসিংদী, শামা ওবায়েদ ইসলাম মাদারীপুর ও শরীয়তপুর এবং অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।

আব্দুল বারীকে বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ঢাকা এবং মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের দায়িত্ব।

মো: রাজীব আহসান বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর, মীর শাহে আলম রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম এবং ফারজানা শারমিন সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। শেখ ফরিদুল ইসলামকে যশোর, মাগুরা ও নড়াইল এবং ইয়াসের খান চৌধুরীকে জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি, মোহাম্মদ শামীম কায়সার জয়পুরহাট ও নওগাঁ এবং আলহাজ্ব মো: জি কে গউস সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন। মিঞা নুরুদ্দিন আহম্মেদকে রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিনকে (নিজান) ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমনসহ সংশ্লিষ্ট জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও উন্নত রাখতে সরকারি দফতরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।

এছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি ও পরামর্শ দেবেন তারা। প্রয়োজনবোধে দায়িত্বপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে পরামর্শও দিতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিদ্যমান ক্ষমতা এবং মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের আলোকে এ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

সূত্র : ইউএনবি