ভাইস অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি পেয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে অভিনন্দন জানান।
র্যাংক ব্যাজ পরিধানের পর নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে আরো আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে তার দিকনির্দেশনা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিমান বাহিনী প্রধান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে বিকেলে নৌবাহিনী সদরদফতরে দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কমান্ড হস্তান্তর ও গ্রহণ বইতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ড গ্রহণ করেন। তিনি বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেয়া খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি দেশ-বিদেশে উচ্চতর সামরিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন, কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া নৌ সদরদফতরে পরিচালক নৌ অপারেশনস ও পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি) এবং জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। নতুন দায়িত্বে তিনি দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরো জোরদারে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।



