ডিএসসিসি প্রশাসক

প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান বাড়াতে কাজ করছে সরকার

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম বলেন, সেই বিবেচনাতেই ঢাকা ব্যাংককে এই সুযোগ দেয়া হয়েছে। আশা করি, তারা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করবে এবং জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

রাজস্ব আদায় কার্যক্রম আরো গতিশীল করা, ট্রেড লাইসেন্স ফি জমা দেয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা ও নাগরিকদের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-২ (খিলগাঁও) কার্যালয়ে ঢাকা ব্যাংকের একটি নতুন কালেকশন বুথ উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বুথটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি’র প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুস সালাম বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবার মান বাড়াতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঢাকা ব্যাংকের এই নতুন কালেকশন বুথ চালুর ফলে এ অঞ্চলের অধিবাসীরা অত্যন্ত সহজে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ফি ও সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।’

সাবেক সরকারের সমালোচনা ও বর্তমান নীতি তুলে ধরে ডিএসসিসি’র প্রশাসক বলেন, আগের সরকার একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে কালেকশন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হাতে কুক্ষিগত করে রেখেছিল।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় বিশ্বাস করে। যারা ভালো ও দ্রুত সেবা দেবে, তারাই এগিয়ে যাবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম বলেন, সেই বিবেচনাতেই ঢাকা ব্যাংককে এই সুযোগ দেয়া হয়েছে। আশা করি, তারা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করবে এবং জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেবে।

নাগরিক সেবা সহজীকরণে সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডিএসসিসি প্রশাসক আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ কল্যাণে বিশ্বাস করে। সিটি করপোরেশন জনগণের করের অর্থে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। তাই একে আরো গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে নাগরিকরা এখনো কিছু ক্ষেত্রে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন—যা সত্যি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ডিএসসিসি’র প্রশাসক বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা সহ্য করা হবে না।’

আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এখন থেকে আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোকে জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, সড়কবাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিয়ন্ত্রণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখ্য সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতে হবে।

আবদুস সালাম আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই রাজধানী ঢাকাতে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। এখনো সব লক্ষ্য অর্জিত না হলেও, সরকার ধারাবাহিকভাবে তা বাস্তবায়নে কাজ করছে।’

বর্ষাকালে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সুরক্ষায় নাগরিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে পলিথিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কমাতে হবে এবং ব্যবহৃত পলিথিন ড্রেনে ফেলা বন্ধ করতে হবে। নাগরিকরা সচেতন হলে শহরের সেবার মান দ্রুত উন্নত করা সম্ভব।’

তিনি স্থানীয় এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও সেবা কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সবাইকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সেবামূলক কাজে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকা ব্যাংকের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস