- সাহানুর ইসলাম
গাজীপুরের টঙ্গীতে ভাড়ায় চালিত একটি রিকশা চুরির ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন রিকশাচালক সাইফুল সাহেব। রিকশাটি হারিয়ে যাওয়ার পর মালিকপক্ষের দাবি করা এক লাখ টাকা পরিশোধের চাপে তিনি অসহায় অবস্থায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার পর থেকে গত কয়েক দিন ধরে সাইফুল বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। অন্যদিকে আর্থিক সংকটে তার বৃদ্ধ বাবা-মা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছোট বোনসহ পরিবারের সদস্যরা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে রিকশা চালানো
সাইফুল সাহেবের গ্রামের বাড়ি বরিশালের প্রত্যন্ত এলাকায়। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে গাজীপুরের টঙ্গীতে বসবাস করেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, অল্প বয়সেই পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীর দায়িত্ব নিতে হয় সাইফুলকে। তার ছোট বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা, সংসারের খরচ এবং বোনের পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহ করতে তিনি টঙ্গীতে ভাড়ায় রিকশা চালাতেন।
জুমার নামাজের সময় রিকশা চুরি
সাইফুলের অভিযোগ, গত ২১ তারিখ শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের সময় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে তার ভাড়ায় চালিত রিকশাটি চুরি হয়ে যায়।
নামাজ শেষে রিকশাটি নির্ধারিত স্থানে না পেয়ে তিনি বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তবে এখনো রিকশাটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
এক লাখ টাকার দাবিতে চাপের অভিযোগ
রিকশাটি চুরির পর মালিকপক্ষ তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করছে বলে অভিযোগ করেছেন সাইফুল। তার দাবি, এত বড় অঙ্কের টাকা পরিশোধ করার সামর্থ্য তার নেই।
তিনি বলেন, পরিবারের দৈনন্দিন খরচ চালাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে এক লাখ টাকা পরিশোধ করা তার জন্য প্রায় অসম্ভব।
তার দাবি, দেনা ও আর্থিক চাপের কারণে গত কয়েক দিন ধরে তিনি বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
বোনের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা
সাইফুলের ভাষ্য, পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস তিনি। তাই এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছোট বোনের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি প্রশাসনের কাছে চুরি হওয়া রিকশাটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আর্থিক সংকট থেকে উত্তরণে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
প্রতিবেদক: নয়া দিগন্তের ইন্টার্ন শিক্ষার্থী।



