যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে : মীর শাহে আলম

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে। এ জন্য শুধু নির্দিষ্ট সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; সারা বছর নিয়মিতভাবে সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করতে হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মাঠপর্যায়ে চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
মাঠপর্যায়ে চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম |সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মীর শাহে আলম বলেছেন, যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে। এজন্য শুধু নির্দিষ্ট সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; সারা বছর নিয়মিতভাবে সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করতে হবে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সারাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরই প্রতিমন্ত্রী মাঠপর্যায়ে চলমান কার্যক্রম পরিদর্শনে বের হন। তিনি ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক ও রাপা প্লাজা এলাকায় পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল এবং আশপাশের পরিবেশ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সাথে কথা বলেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, প্রতিমন্ত্রী রাজধানীর সেচ ভবনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে। এ জন্য শুধু নির্দিষ্ট সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; সারা বছর নিয়মিতভাবে সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করতে হবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে একটি ধারাবাহিক সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। সরকারি সংস্থার পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী তিন মাসের এ বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু মশা নিধন নয়; বরং পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা এবং নাগরিকদের মধ্যে স্থায়ী সচেতনতা গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এডিস মশা যাতে বংশবিস্তার করতে না পারে, সেজন্য বাড়ি-ঘর, নির্মাণাধীন ভবন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনার আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরো কার্যকর করতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একইসাথে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পরিধি ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

নির্মাণাধীন ভবনকে এডিস মশার প্রজননের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ স্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নির্মাণসামগ্রী, ড্রাম, বালতি, গর্ত বা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই ভবন মালিক, নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়মিতভাবে এসব স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্টদের সচেতন ও সতর্ক করার পরও কেউ যদি দায়িত্বে অবহেলা করেন এবং এডিস মশার প্রজননের পরিবেশ সৃষ্টি করেন, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড এবং প্রয়োজনে কারাদণ্ডের মতো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে তিনি সবাইকে শাস্তির পরিবর্তে সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

পরিদর্শনকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং অন্যান্য অংশীজন উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস