উপদেষ্টা জাহিদকে দিল্লি বিমানবন্দরে হেনস্তার ঘটনা দুঃখজনক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমান
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমান |ইন্টারনেট

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা: জাহেদ উর রহমানকে দিল্লি বিমানবন্দরে হেনস্তা করার ঘটনাটি ‘অযাচিত ও দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি অযাচিত এবং দুঃখজনক ঘটনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

তিনি জানান, আমরা কী ব্যবস্থা নিয়েছি, তা দিনশেষে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

দিল্লিতে আজ থেকে শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে ডা: জাহেদ উর রহমান গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ওই বৈঠকে তার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিল। জাহিদ উর রহমান সরকারি পাসপোর্ট না নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্ট ব্যবহার করছিলেন, যাতে সার্ক ভিসা অব্যাহতির স্টিকার ছিল। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত যে সব ইউটিউব চ্যানেল নিষিদ্ধ করেছিল, এর মধ্যে ডা: জাহেদ উর রহমানের ‘জাহিদ টকস’ নামের চ্যানেলটিও ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লিতে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার কাছে নোটিফিকেশন এলে জাহিদ উর রহমানকে প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে দিল্লিতে বাংলাদেশে হাইকমিশনের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সুরাহা হলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমোদন দেন। কিন্তু ডা: জাহিদ এই হেনস্তায় অপমানিতবোধ করেন। তিনি আইওআরএ’র বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পরবর্তী ফ্লাইটে ঢাকা চলে আসার সিদ্ধান্ত নেন। দিল্লি থেকে সরাসরি ফ্লাইট না পেয়ে কলম্বো হয়ে আজ সকালে ডা: জাহিদ ঢাকা ফেরেন।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন আইওআরএ’র বৈঠকে উপদেষ্টার অংশ নেয়ার বিষয়টি গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল।

অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সমস্যাটি একটি আপাত প্রশাসনিক ত্রুটি থেকে উদ্ভূত হয়েছে। ডা: জাহিদের নাম আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-সংক্রান্ত একটি কালো তালিকা থেকে সরানো হয়েছিল। কিন্তু তা অভিবাসন নজরদারির তালিকায় থেকে যায়। যার ফলে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার আগমনের পর সতর্কতা জারি হয়। পরে এই অসঙ্গতি শনাক্ত ও সমাধান করার পর কর্মকর্তারা ডা: জাহিদ উর রহমানকে দিল্লি প্রবেশের ছাড়পত্র দেন।