যৌথ চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল কনটেন্ট চীন-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব আরো গভীর করতে পারে : জবিউল্লাহ

‘বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্প, সংস্কৃতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে আরো কার্যকর করতে চীনা ভাষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ-এর ওপর কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলামের ভ্যালিডেশন কর্মশালা’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মো: ইসমাইল জবিউল্লাহ
‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ-এর ওপর কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলামের ভ্যালিডেশন কর্মশালা’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মো: ইসমাইল জবিউল্লাহ |সংগৃহীত

যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র, বই ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে চীন ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরো গভীর হবে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মো: ইসমাইল জবিউল্লাহ।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ-এর ওপর কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ড ও কারিকুলামের ভ্যালিডেশন কর্মশালা’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা, প্রযুক্তি, শিল্প, সংস্কৃতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে আরো কার্যকর করতে চীনা ভাষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

উপদেষ্টা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে’ উন্নীত হয়েছে। এ অংশীদারত্ব যত বিস্তৃত হবে, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম ও পেশাজীবীদের চীনা ভাষায় যোগাযোগের সক্ষমতাও তত বেশি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দক্ষতায় পরিণত হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন একটি কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে ঢাকার একজন শিক্ষার্থী কিংবা প্রত্যন্ত গ্রামের একজন শিক্ষার্থীও অনলাইন ও প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চীনা ভাষা শেখার সুযোগ পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, পেশাজীবী কিংবা দক্ষ কর্মী- সবার জন্য নিজের সুবিধাজনক সময়ে চীনা ভাষা শেখার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাধ্যমিক শিক্ষায় তৃতীয় ভাষা চালুর ওপর জোর দিয়েছেন। আগামী কয়েক দশকের প্রয়োজন ও সম্ভাবনা বিবেচনায় চীনা ভাষা তৃতীয় ভাষা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো শিক্ষা। চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থান ও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। চীনা ভাষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ ও কর্মজীবীরা চীনা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের সাথে আরো কার্যকরভাবে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন।

এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএফএ) সভাপতি অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু এবং ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের (আইএসসি) চেয়ারম্যান মির্জা নুরুল গনি শোভন।

অনুষ্ঠানে এনএসডিএ-এর সদস্য ও পরিচালক, সংশ্লিষ্ট পরামর্শক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, চীনা ভাষা, শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। বাসস