আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে শিশু রামিসা হত্যা মামলায় হাইকোর্টের পেপার বুক তৈরির কাজটি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল।
মঙ্গলবার বিকেলে শিশু রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) নথি হাইকোর্টে আসার পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
উল্লেখ, হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানির আগে পেপার বুক তৈরি করতে হয়।
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমি আশা করছি, আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে হয়তো এই মামলায় হাইকোর্টে পেপার বুক তৈরির কাজটি সম্পন্ন হবে। পেপার বুক হয়ে গেলে প্রধান বিচারপতি আগামী রোববার থেকে যে বিশেষ বেঞ্চের কথা বলেছেন, সে বেঞ্চেই আমরা রামিসার মামলাটি শুনানির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করব এবং হয়তো আমরা এ মামলাটি শুনানির জন্য তালিকায় আনতে পারব।
তিনি বলেন, মানুষের প্রত্যাশা যত দ্রুত সম্ভব এ রায়টি বাস্তবায়ন হোক। আমাদের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কথা যে আমরা এই মামলার শুনানিতে বিলম্ব ঘটাব না। আমরা এক দিনের জন্যও শুনানি মুলতবি চাইব না। আগেই জানিয়েছি যে জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকে এ মামলাটি শুনানির জন্য আইনজীবী নির্দিষ্ট করেছি। আমরা প্রত্যাশা করি, যত দ্রুত সম্ভব আপিলটি নিষ্পত্তির মাধ্যমে এই মামলার রায় কার্যকরের দিকে এগিয়ে যাবে।
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গত ৭ জুন মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। পাশাপাশি সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার মা-বাবা ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে আসামির বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা শিশুটির খণ্ডিত লাশ দেখতে পান।
এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় গত ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়।
গত ২০ মে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩০) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। একই দিন আদালত স্বপ্না আক্তারকেও (২৬) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। একই দিনে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নেন।
গত ১ জুন সোহেল ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর গত ৪ জুন চার্জগঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য ৭ জুন দিন ধার্য করেন আদালত।
সূত্র : বাসস



