দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপি, ঘিওরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জনি এবং যুবলীগ নেতা মো: আবুল বাশারকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুদক প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো: আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ এবং অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
দুদক জানায়, সাবেক সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপির নামে এক কোটি ৩৯ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য মিলেছে। তার অর্জিত সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ উদঘাটন এবং আয়ের উৎসের সঠিকতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে এই আদেশ দেয়া হচ্ছে।
একইভাবে, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জনির নামে ৬৯ লাখ ৯৪ লাখ ১৮৪ টাকার অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ পাওয়া গেছে। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সঠিক হিসাব বের করতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী একই আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, যুবলীগ নেতা মো: আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অবৈধ বালু ব্যবসা, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) মাধ্যমে বিপুল অর্থ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার মালিকানাধীন ১৪টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৮৬ কোটি ৮০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪৯ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আবুল বাশারের নামে আরো বেনামী স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ থাকতে পারে। তাই তার অর্জিত সব সম্পদের উৎস ও সত্যতা যাচাইয়ে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাবেক সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বিরুদ্ধে এক কোটি ২১ লাখ ৮১ হাজার ৭৯০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ২২টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৯৩ কোটি ৬৫ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১-এ একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
দুদক প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক মো: আবুল হাসনাতের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের অনুসন্ধান দল এই বিষয়ে তদন্ত পরিচালনা করছে। দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক তাপস ভট্টাচার্য্য এবং উপ-সহকারী পরিচালক ওয়াশকুরুনী।
সূত্র : বাসস



