বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো: শাহজাহান কবির মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।
এ মামলার তৃতীয় আসামি হলেন- বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর সাবেক সভাপতি এবং এক্সিম ব্যাংক পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান মো: নজরুল ইসলাম মজুমদার।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ গঠন করা হয়। দলিল অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ট্রাস্টটির আজীবন সভাপতি এবং তার অনুপস্থিতিতে শেখ রেহানা সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, সমাজসেবা অধিদফতর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও দেশের ৪১টি তফসিলি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টটির নামে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।
অনুসন্ধানে আরো অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন বিএবি সভাপতি মো: নজরুল ইসলাম মজুমদার নির্বাহী কমিটির সভার নির্ধারিত আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি না থাকা সত্ত্বেও তা ‘বিবিধ’ আলোচনায় উপস্থাপন করেন। পরে বিভিন্ন নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টের অনুকূলে অর্থ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি দেয়া হয় এবং ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টের অনুকূলে অর্থ সংগ্রহ করা হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টের নামে অর্থ সংগ্রহ করেন। এর মাধ্যমে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় উল্লেখ করা ঘটনাকাল ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত।



