সুপ্রিম কোর্টে একটি তালার পেটে কয়েক শ’ চাবি

প্রায় ১০ ফুট উঁচু ও পাঁচ ফুট চওড়া এ তালা প্রথম দেখায় অনেকের কাছেই ধাতব শিল্পকর্ম বলে মনে হতে পারে। তবে কাছে গেলেই বোঝা যায়, এটি সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি অংশ।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
তালা-আকৃতির এই আলমারিতে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের শত শত চাবি
তালা-আকৃতির এই আলমারিতে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের শত শত চাবি |বাসস

দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী একটি তালা। এর ভেতরে সযত্নে সংরক্ষণ করা হয় কয়েক শ’ চাবি।

প্রযুক্তির এই যুগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। স্মার্ট লক, ডিজিটাল অ্যাক্সেস, বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ও কার্ডভিত্তিক প্রবেশ ব্যবস্থা এখন অনেক প্রতিষ্ঠানের নিত্যদিনের বাস্তবতা। তবে এই প্রযুক্তিনির্ভর সময়েও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে ব্যতিক্রমী এক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতীক- বিশাল আকৃতির একটি তালা। এটি আসলে সাধারণ কোনো তালা নয়, বরং তালার আদলে তৈরি একটি বিশেষ আলমারি। এর ভেতরেই সংরক্ষণ করা হয় সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন দফতরের কয়েক শ’ চাবি।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের নিচতলায় সোনালী ব্যাংক-সংলগ্ন প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে ঢুকলেই ডান পাশে চোখে পড়ে এই বিশাল আকৃতির তালাটি। প্রায় ১০ ফুট উঁচু ও পাঁচ ফুট চওড়া এ তালা প্রথম দেখায় অনেকের কাছেই ধাতব শিল্পকর্ম বলে মনে হতে পারে। তবে কাছে গেলেই বোঝা যায়, এটি সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি অংশ।

তালা-আকৃতির এই আলমারিতে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের শত শত চাবি। প্রধান বিচারপতির দফতর, আপিল বিভাগের বিচারপতিদের এজলাস ও চেম্বার, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের দফতর, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসসহ আদালতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কক্ষের চাবি এখানেই সংরক্ষণ করা হয়।

প্রতিদিন সকালেই সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চাবি বুঝে নেন। বিচারিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষে নির্ধারিত নিয়মে আবার চাবিগুলো জমা দেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের একাধিক কর্মচারী চাবিগুলো সংরক্ষণ ও হস্তান্তরের দায়িত্ব পালন করেন।

সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশাল আকৃতির তালাটি মূলত চাবি সংরক্ষণের একটি আলমারি। প্রধান বিচারপতির দফতরসহ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের দফতর এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসের তালা খোলার কয়েক শ’ চাবি এখানে রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মচারীরা সকালে এখান থেকে চাবি বুঝে নিয়ে বিকেল বা রাতে আবার জমা দিয়ে যান।’

সূত্র : বাসস