জেআইসিতে এক-এগারোর সময় তারেক রহমানকে নির্যাতনের তথ্য পাওয়া গেছে : চিফ প্রসিকিউটর

আমরা বর্তমান সরকারের কাছে অনুরোধ জানাব, বাংলাদেশে যাতে আর কোনো টিএফআই সেল অথবা জেআইসি বা আয়নাঘর ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত না হয়। দেশের কোনো নাগরিক যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে এবং তাকে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম
চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম

এক-এগারোর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের তথ্য বিভিন্ন সাক্ষীর বর্ণনায় পাওয়া গেছে এবং পর্যায়ক্রমে এগুলো বিচারে রিফ্লেকশন হবে বলে উল্লেখ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম।

আজ শনিবার ঢাকা সেনানিবাসে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতর (ডিজিএফআই) কমপ্লেক্সে থাকা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিচারের অংশ হিসেবে আজ আমরা ডিজিএফআই’র কমপ্লেক্সের ভিতরে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) পরিদর্শন করেছি। এই জেআইসি নামক প্রতিষ্ঠানটি ছিল মানুষকে ধরে এনে বন্দি করে রেখে তাদের ওপর অত্যাচার এবং নির্যাতনের একটা সেল। যেটা পরবর্তীতে আয়নাঘর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সেখানে অমানবিকভাবে বন্দিদেরকে ধরে এনে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর রাখা হয়েছে। সেই নির্মম চিত্র আজকে এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে কিছুটা অনুভব করা গেছে।

তিনি বলেন, আজ যে জেআইসি আমরা পরিদর্শন করেছি এক-এগারোর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তারই কোনো একটি কামরায় আনা হয়েছে। তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছিল, এটাও কিন্তু আমাদের ইনভেস্টিগেশনে বিভিন্ন সাক্ষীদের মুখের বর্ণনা থেকে (সে তথ্য) পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে এগুলো বিচারে রিফ্লেকশন হবে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা বর্তমান সরকারের কাছে অনুরোধ জানাব, বাংলাদেশে যাতে আর কোনো টিএফআই সেল অথবা জেআইসি বা আয়নাঘর ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত না হয়। দেশের কোনো নাগরিক যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে এবং তাকে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। কিন্তু এক্সট্রা জুডিশিয়াল কোনো কিলিংয়ের শিকার যাতে কোনো নাগরিক না হয়। কেউ যাতে কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা অহেতুক হয়রানির শিকার না হয়। কেউ যেন বন্দিশালায় দিনের পর দিন মাসের পর মাস হয়রানির শিকার না হয়।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অমানবিক রাষ্ট্র কায়েম করা হয়েছিল উল্লেখ করে মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সংখ্যক অতি উৎসাহী সদস্য সরকারের কিছু অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এই আয়নাঘর নামের টর্চার সেলগুলো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠ করেছিল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী, চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিম, আসামিপক্ষের আইনজীবী, ডিজিএফআইয়ের প্রধান ও নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মো: ইয়াসিন, সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মুন্না, সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিম, কার্যনির্বাহী সদস্য মাজহারুল হক মান্না আজকের পরিদর্শনে অংশ নেন।

সূত্র : বাসস