অপরাধীদের বন্ধু মনে করার কারণ নেই, তারা ছোবল মারতে পারে : চিফ প্রসিকিউটর

যারা গুমের সাথে জড়িত, তারা অত্যন্ত শক্তিশালী ও দুষ্কৃতকারী। সেটা মাথায় রেখেই আমরা যেমন নিজেরা সতর্ক আছি; গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদেরও সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি এবং সরকারের কাছ থেকে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম |বাসস

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম বলেছেন, অপরাধীকে বন্ধু মনে করার কোনো কারণ নেই, তারা যেকোনো সময় ছোবল মারতে পারে।

আজ রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুমের এসব ঘটনাকে আমরা ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেমেটিক অ্যাটাক বলে আখ্যায়িত করেছি। কারণ প্রত্যেকটি ঘটনার একটির সাথে আরেকটির মিল রয়েছে। এ কারণে ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেমেটিক হিসেবে চিহ্নিত করে আমরা এটাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছি। গুমের শিকার ২৫১ জন বা যারা এখন পর্যন্ত ফেরত আসেননি, তাদের পেছনে একই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা প্রায় ঘুরেফিরে পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে এটা ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেমেটিক ক্রাইম।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি যে অপরাধীকে বন্ধু মনে করার কোনো কারণ নেই। তারা (অপরাধী) তাদের মতো করেই যেকোনো সময় ছোবল মারতে পারেন। এটা লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করছি। আমরা যেভাবে সচেতন আছি, সরকারকেও একইভাবে সচেতন থাকতে বলব। এছাড়া আমাদের ভিকটিম পরিবারগুলোকেও সতর্ক থাকতে বলব। বিশেষ করে এই তদন্ত যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়। কোনোভাবে যাতে কোনো ‘স্যাবোটাজ’ করে তদন্ত কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা কেউ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের এখানে যারা নিরাপত্তার কাজ করেন, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তাদের সতর্ক করা হয়েছে। কিছু কিছু আসামির গতিবিধি, তৎপরতা তাদের কাছে সন্দেহজনক লেগেছে। কিছু কিছু গোপন তথ্য আমাদের (প্রসিকিউশন) কাছে আছে যে তারা (কিছু আসামি) যেকোনো স্যাবোটেজ বা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাতে পারেন।

গুম প্রতিরোধ আইন নিয়ে তিনি বলেন, আপনারা জানেন গুম প্রতিরোধ এবং প্রতিকার আইন নামে একটি আইন হতে যাচ্ছে। এটি অত্যন্ত যুগোপযোগী আইন। এর মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে হওয়া গুমের বিচার হয়তো অন্য মাত্রার একটি গতি পাবে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সবকিছু মিলিয়ে যারা গুমের সাথে জড়িত, তারা অত্যন্ত শক্তিশালী ও দুষ্কৃতকারী। সেটা মাথায় রেখেই আমরা যেমন নিজেরা সতর্ক আছি; গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদেরও সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি এবং সরকারের কাছ থেকে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। সর্বোপরি গুমের তদন্ত আমরা খুব দ্রুততার সাথে শেষ করে বিচারের সম্মুখীন করব।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির নেতৃত্বে আজ চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যান গুমের শিকার ৫৫টি পরিবারের সদস্যরা। তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করবে তদন্ত সংস্থা।