২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (১৪ জুন) এই রায় প্রকাশ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ রায়ে ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ, শাস্তি নির্ধারণের যুক্তিসহ বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরা হয়।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামি হলেন, পুলিশের এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজন হলেন সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।
১০ বছরের সাজাপ্রাপ্তরা হলেন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, বেরোবির গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ ও ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়া। তারা সবাই পলাতক।
পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন আরএমপির সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে দিশা, ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বেরোবির অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সারোয়ার হোসেন ওরফে চন্দন।
তিন বছরের সাজা পেয়েছেন বেরোবির সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, বেরোবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, সহ-সভাপতি ফজলে রাব্বী ওরফে গ্লোরিয়াস ফজলে রাব্বী, সহ-সভাপতি আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ ওরফে আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ওরফে টগর, দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন, বেরোবির এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন ওরফে আমু ও সিকিউরিটি গার্ড নূর আলম মিয়া।
এছাড়া বেরোবির প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেলের হাজতবাসকে সাজার মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে বলে গণ্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন আবু সাঈদ। তার দুই হাত ছড়িয়ে পুলিশের সামনে দাঁড়ানোর একটি ভিডিও সেসময় সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কারফিউ জারি করলেও তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় সরকার।
এর ২০ দিন পর ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়।



